দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক, কম যাত্রী চাপ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে আকাশপথের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-করাচি রুট ফ্লাইট। সম্প্রতি দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার আলোচনায় নতুন করে বিমান যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় নতুন ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানোর কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ফিরছে এ রুটটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক জনসংযোগ বোসরা ইসলাম বলেন, ‘একটা রুট চালু করতে হলে অনেক কাজ করতে হয়, আপাতত সেগুলো চলমান রয়েছে। এতদিন কোনো ফ্লাইট ছিল না আমাদের দিক থেকেও এবং ওদের দিক থেকেও। ফ্লাইট আবার চালু হলে উভয় দেশেই উপকৃত হবে।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, দীর্ঘ ১৩বছর এই রুটটি চালু হলে দুই দেশের যাত্রীরা লাভবান হবে। বাড়বে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের পরিধিও।
তবে সেক্ষেত্রে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রুট সচল রাখতে স্থায়ী চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রয়োজন রয়েছে। প্রাথমিক আগ্রহ থাকলেও নিয়মিত যাত্রী প্রবাহ ধরে রাখতে এয়ারলাইন্সগুলোকে রুটম্যাপ, মার্কেটিং ও ট্রানজিট কানেকশন শক্তিশালী করতে হবে।
আরও পড়ুন:
বিমান বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদ উল আলম বলেন,‘পরিচালনার জন্য কী ধরনের ফ্লাইট তারা ব্যবহার করবে, কত বা কী ধরনের যাত্রী হবে সেগুলো মূল্যায়ন করা দরকার। কারণ মূল্যায়ন না করে রুট শুরু হলে, আমরা অতীতে দেখেছি অনেক রুট চালু করার পর পরে তা আবার বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি কিন্তু একটা এয়ারলাইন্সের জন্য কোনো ভালো বার্তা দেয় না।’
এ বিশেষজ্ঞ আরও জানান, বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে কূটনীতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে নিরবচ্ছিন্ন ঢাকা-করাচি বিমান চলাচল।
কাজী ওয়াহিদ উল আলম আরও বলেন, ‘বিমানই আসলে ভালো কারণ বলতে পারবে এখন কেন তারা রুট চালু করলো। যদি কমার্শিয়াল কারণকে জাস্টিফাই না করা হয়, তাহলে আমার মনে হয় না এটা একটা খুব ভালো ডিসিশন।’
এর আগে বছরের প্রথম দিকেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় পাকিস্তান সিভিল এভিয়েশন অথোরিটি।





