যশোর শহরের লিচুতলা এলাকার রাজিয়া খাতুন। দুই দশক আগে ১০ হাজার টাকায় সেলাই ও নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন তিনি। যাতে সাড়া ফেলেছেন অল্প সময়ে। বর্তমানে শাড়ি, থ্রি-পিস, বেড শিট পাইকারি ভাবে কিনে এনে নকশি ও ফুলের কাজ করে বিক্রি করছেন তিনি। পাশাপাশি দিয়েছেন দোকানও। যেখানে শুধু তার একার নয়, কর্মসংস্থান হয়েছে অনেক মানুষের। এমনকি পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন সম্মাননাও।
নারী উদ্যোক্তা রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ, দর্জির উপর প্রশিক্ষণ এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং পেয়েছি। এরপরে আমি হস্ত শিল্পের ব্যবসা শুরু করি। এখন মোটামুটি অবস্থায় ভালো আছি।’
শুধু রাজিয়া খাতুন নয়; একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দর্জির কাজ, কাপড়ের ব্যবসা এমনকি বিউটি পার্লারের কাজ করে অর্থনৈতিক স্বচ্ছ্বলতা পেয়েছেন যশোরের কয়েক হাজার নারী। তাদের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পরিবারের অন্য সদস্যরাও।
নারী উদ্যোক্তা হামিদা আক্তার বিউটি বলেন, ‘আগে সংসার চালাতে কষ্ট হতো এখন তা হয়না।’
নারী উদ্যোক্তা হনুফা খাতুন বলেন, ‘ঘরে বসে আমি কাজগুলো করতে পারি। বাহিরে যেতে হয় না। আর্থিকভাবে সফল হতে পেরেছি পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছি।’
নারী উন্নয়ন কর্মীরা বলছেন, প্রান্তিক এসব নারীদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিলে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। এতে করে চাঙ্গা হবে শহর ও গ্রামের অর্থনীতি।
যশোরের নারী ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাড. সৈয়দা মাসুম বেগম বলেন, ‘ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত আছে তা যদি সিথিল করা হয় তাহলে লোন পেতে তাদের জন্য সুবিধা হয়।’
সমাজসেবা অধিদপ্তর বলছে, যশোরে নারীদের হাত ধরে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে ৩০ কোটি টাকা। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হস্তশিল্প, ব্লাগবাটিক, বিউটি পালার সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
যশোরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন বলেন, ‘একসঙ্গে কাজ না করলে তো হবে না। সরকারের একার পক্ষে তো কাজ করা সম্ভব না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে সহযোগিতা করছে এভাবে করতে থাকলে এই ধারা অবহ্যাত থাকবে।’
যশোরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অসিত কুমার সাহা বলেন, ‘তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
যশোরে বাড়ির কাজের পাশাপাশি ঘরে বসে বিভিন্ন ব্যবসা ও হস্ত শিল্পের কাজ করছেন ৩০ হাজার নারী।