স্বয়ংক্রিয় মেশিনের নিরবচ্ছিন্ন ছন্দে বেরিয়ে আসছে পরোটা। মুহূর্তেই প্রস্তুত হয়ে ঢুকছে দৃষ্টিনন্দন মোড়কে। শ্রমিকদের সুনিপুণ হাত আর যন্ত্রের গতিশীলতায় এখানে প্রতি ঘণ্টায় তৈরি হচ্ছে শত শত পরোটা।
চট্টগ্রামের সাগরিকা এলাকার কারখানাটি হিমায়িত খাদ্য উৎপাদনে শীর্ষ রপ্তানি প্রতিষ্ঠান সীমার্ক গ্রুপের। যেখান থেকে এসব পরোটা পাড়ি দিবে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের নানা দেশে। শুধু পরোটা নয়, কারখানা থেকে রপ্তানি হয় সমুচাও নানারকম পিঠাপুলিও।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রায় অর্ধশত বছর আগে সামুদ্রিক মাছ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও মৎস্য সম্পদের সংকট বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন ঝুঁকছে খাদ্য রপ্তানিতে।
আরও পড়ুন:
কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা ১০০ থেকে ১৫০ কন্টেইনার পাঠাচ্ছি। আগে আরও বেশি পাঠানো হতো বর্তমানে মালামাল সমস্যার কারণে কম পাঠানো হচ্ছে।’
উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশ ১৪৬টি দেশে বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তুতকৃত খাদ্য রপ্তানি করে। যার মধ্যে আছে পরোটা, বিস্কুট, নুডলস, জেম, জেলিসহ ১৭২ ধরনের পণ্য। আর হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের। তবে বর্তমানে মাছের ঘাটতি, কৃষিতে সংকট আর বৈশ্বিক বাজারের মন্দা ভাবাচ্ছে তাদের।
স্বত্বাধিকারী ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘আপনি কোটি কেটি টানা ইনভেস্ট করার পর হঠাৎ করে দেখবেন দেশের আইন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা চাই নতুন সরকার আমাদেরকে একটু সহযোগিতা করুক।’
সম্প্রতি চট্টগ্রামের এ কারখানা পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, ‘শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য রপ্তানির সুযোগ বাংলাদেশের জন্য বড় পাওয়া।’
হিমাইতো খাদ্য সংকট থেকে এখনো বাংলাদেশ অনেক দূরে। তবে সরকারি প্রণোদনা, আর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে অনেকটাই সম্ভাবনার দরজা খুলবে বহির্বিশ্বে।





