এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর। ২৪ ঘণ্টায় কর্মমুখর থাকা বন্দর গত ছয় দিনে স্থবির ও নিথর হয়ে পড়েছে। পুরোপুরি বন্ধ পণ্য খালাস, ডেলিভারি ও রপ্তানি পণ্য শিপমেন্ট।
বার্থ অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বার্থ অপারেটরা প্রতিদিন গড়ে ৩০থেকে ৩৫ লাখ টাকা লস করছি। যেটা আমাদের সামনে রোজার সময় শ্রমিকদের ঈদ বোনাস এবং স্যালারিসহ সব কিছু দিতে আমাদের অনেক সমস্যা হয়ে পরবে। এ পাঁচদিন বন্ধ থাকায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবেই পিছিয়ে গিয়েছে। আমরা চাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে যৌক্তিক একটা সমাধান।’
এনসিটি ইজারা ও বন্দরের অচলাবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠক করতে চট্টগ্রামে আসেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা। আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বন্দরের ৪ নম্বর গেইটের সামনে এবং বন্দর ভবনে প্রবেশের সময় নৌ উপদেষ্টাকে ঘিরে দফায় দফায় বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন:
এসময় এনসিটির চুক্তি নিয়ে নিয়ে কাজ বন্ধ না রেখে রোজাকে সামনে রেখে শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান নৌ উপদেষ্টার। এর আগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বন্দরের কর্মকর্তাদের সাথে নৌ উপদেষ্টার বৈঠক করেন তিনি।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বিগ্রে জেনারেল অব. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ওনাদের সাথে কথা হবে। তারপর ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলবো। ওনাদের কাছে অনুরোধ এরকম ভাবে যদি বন্দর চলতে থাকে তাহলে সরকারের না রাষ্ট্রের ক্ষতি হবে। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যা সমাধান করা হবে।’
তবে, অনড় অবস্থানে শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতারা বলছেন, ওয়ান টু ওয়ান বৈঠকে তারা যাবেন না। দুপুরে বোর্ড সভায় বৈঠকে সুরাহা বা সমাধান হলেই তারা আন্দোলন স্থগিত করবেন। অন্যথায় লাগাতার কর্মবিরতি চলবে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, আমরা বোর্ড সভার বৈঠকে যাবো। সেখানে আলোচনা হবে, সেখান থেকে যদি নিরসন হয় তাহলে আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবো। আর আশানুরূপ ফল না পেলে আন্দোলন চলবে।
এনসিটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ ও ১৬ কর্মচারীর বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী শনিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দরে ভবনসহ ও জেটিতে প্রবেশের বিভিন্ন গেইটে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও নৌ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন গেইটে।





