ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে ব্যাংকপাড়া মতিঝিল। তাতে এস আলম গ্রুপের ব্যাংক পুনর্দখলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোসহ রয়েছে বেশকিছু দাবি।
ঘটনার সূত্রপাত ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ নিয়ে। যেখানে যুক্ত করা হয় ১৮ নামে নতুন ধারা। অভিযোগ উঠেছে এই ধারার মাধ্যমে নতুন করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে পুরানো মালিকরা।
এরই মধ্যে গত ১৯ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ করে আন্দোলনে নামে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চাকুরিচ্যুতরা। গ্রাহক ফোরামের ব্যানারেও হয় পাল্টা আন্দোলন। শুধু তাই নয়, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে পুরো ব্যাংক খাতে। তবে ২১ এপ্রিলে সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী জানান, বিএনপির রাজনীতিতে অর্থনৈতিক সমঝোতার সুযোগ নেই।
যদিও তাতে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংকট ঘনীভূত হওয়ার আগেই রোধ করতে হবে নেতিবাচক প্রচারণা।
আরও পড়ুন:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেন, ‘যারা এখন কর্তা ব্যক্তি আছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রেগুলেটরি অথরিটি এবং প্রত্যেকটা আক্রান্ত অথবা দুর্বল ব্যাংক তাদের উচিত হবে প্রচেষ্টার দিকে এগিয়ে যাওয়া। যতটুকু পারা যায় গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দীক বলেন, ‘আস্থা ফিরিয়ে নিয়ে আসা আমি মনে করি খুব চ্যালেঞ্জিং। অতএব সরকারের কী করা উচিত সেটা দৃঢ়তার সঙ্গে বলা উচিত। যদি সরকার আস্থা ফিরাতে চায়, তাহলে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে হবে। এবং যে সহযোগিতা দিবে সেটি রাষ্ট্রের টাকা, জনগণের টাকা। অতএব সেই টাকা আবার সেন্ট্রাল ব্যাংকে ফেরত যাবে, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
এমন অস্থিরতার মধ্যেও এ বিষয়ে মুখ খুলছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই মুখ্য অর্থনীতিবিদ বলছেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেই। গ্রাহকদের জানাতে হবে সঠিক তথ্য।
অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘নতুন করে যে ব্যাংক খাতে অস্থিরতা আবার একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে, নিঃসন্দেহে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা ব্যাংক খাতকে আরও বেশি নাজুক অবস্থায় নিয়ে যাবে। কাজেই এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের যে বক্তব্য, আমরা সবাই আশা করব, যে তারা তাদের বক্তব্য জনসমক্ষে দেবেন এবং যাতে এ অস্থিরতার মূল কারণটা দূরীভূত হয় এবং ব্যাংক খাতটা ঘুরে দাঁড়ানোর পরিবেশ, সেই পরিবেশটা যাতে সৃষ্টি হয়।’
ব্যাংক খাতকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করাতে হলে খেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





