মাস দুয়েক ধরে দিনের একটি বড় অংশ পাম্পে কাটানোই যেন নিয়তি। পরিস্থিতি সামলাতে ইলেকট্রিক গাড়িতে আস্থা রাখছেন অনেকে। পাশাপাশি যানবাহনকে সিএনজি ও এলপিজিতে রূপান্তরের হারও বেড়েছে কয়েকগুণ।
রাজধানীর বিভিন্ন শো রুম ঘুরে দেখা যায় এই যান নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। একেকটি প্রাইভেট কারের জন্য সর্বনিম্ন ২৫ লাখ থেকে কোটি টাকা গুনতে হচ্ছে। যা এক চার্জে চলবে সাড়ে তিনশো থেকে ছয়শো কিলোমিটার পর্যন্ত। তাছাড়া কিছু মডেলের গাড়িতে বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি দ্বারা উৎপাদিত শক্তিতে চলাচলের সুবিধা রয়েছে।
গ্রাহকরা জানান, জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই বিদ্যুৎচালিত এই গাড়িটিকে বেছে নিচ্ছেন তারা। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম হওয়ায় এর অন্যতম কারণ।
ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘জ্বালানির তো ডেফিনেটলি একটু প্রবলেম আছেই। সেটা তো আর লং স্ট্যান্ডিং হবে না আমার কাছে মনে হয়। তবে এ প্রযুক্তিটাই ইম্পরট্যান্ট।’
এদিকে বিক্রেতারা জানান, আগের চেয়ে ইলেকট্রিক গাড়ির বিক্রি বেড়েছে দিগুণেরও বেশি। সামনে এই যানের কদর আরও বাড়বে বলেও আশাবাদী তারা।
আরও পড়ুন:
বিক্রেতাদের একজন বলেন, ‘আগের তুলনায় অনেক ভালো। বলতে গেলে দ্বিগুণ। বিক্রিটা বাড়ছে কারণ ফুয়েল ক্রাইসিস চলছে।’
বিক্রেতাদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘স্বল্প খরচে চালানো যায় প্লাস মেইনটেনেন্স কস্ট খুবই স্বল্প। আর সবচেয়ে বড় উপকার হচ্ছে গাড়িগুলো ব্র্যান্ড নিউ কন্ডিশনে বাংলাদেশে আসে।’
অন্যদিকে ঢাকায় বাড়ির বাইরে ইলেকট্রিক গাড়ি চার্জের ব্যবস্থা খুবই সীমিত। হাতেগোনা দুয়েকটি প্রতিষ্ঠান মাত্র এ সুবিধা দিয়ে থাকে। তাদের দাবি, বিদ্যুতের ডিমান্ড চার্জ কমানো হলে কমমূল্যে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবেন তারা। পাশাপাশি এ ব্যবসার প্রসার ঘটবে।
ক্রেতাদের একজন বলেন, ‘ফিউচারে যে পরিমাণ ইভি বাড়বে আমরা আশা করছি, তখন কিন্তু আমাদের চার্জিং সেটআপ, ডিসি চার্জিং সেটআপের অনেক দরকার হয়ে যাবে। ডিমান্ড চার্জ যদি কমে আসে, তখন আরও প্রাইভেট কোম্পানিজ যারা আছে তারাও ইনফ্লুয়েন্সড হবে আরও ডিসি চার্জিং এস্টাবলিশ করার জন্য।’
এছাড়া জ্বালানি সংকট ও দাম বাড়ায় গাড়িতে সিএনজি ও এলপিজি রূপান্তর কেন্দ্রেও কর্মযজ্ঞ বেড়েছে। আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি আসছে প্রতিদিন।
কারখানার একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমাদের আগে যেমন প্রতি মাসে আমরা যদি ২০ থেকে ৩০টি করি এখন সেটি কিন্তু ৫০ থেকে ৬০টি এরকম করে আমাদের এখন বেড়ে চলছে।’
বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইলেকট্রিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। পাশাপাশি বেড়েছে সিএনজি ও এলপিজিতে রূপান্তর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী সমাধান পেতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিকল্প নেই।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ইভি আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপরে চাপ কমাতে পারে শুধুমাত্র যখন আমরা ইভি রিনিউয়েবল ফোকাস করব। সোলার পাওয়ারড আমরা যদি চার্জিং স্টেশন করতে পারি, আমরা যদি অন্য কোনো ধরনের রিনিউয়েবল দিয়ে উইন্ড দিয়ে বা ইভেন বায়োগ্যাস দিয়েও আমরা এ ধরনের চার্জিং স্টেশন করতে পারি তখন আমার এনার্জির ওপরে যে চাপ সেটা কমাবে কারণ আমরা তো এনার্জি ইম্পোর্ট ডিপেন্ডেন্ট একটা কান্ট্রি, আমাদের নিজস্ব জীবাশ্ম জ্বালানি নাই।’
তবে সামগ্রিক বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌরবিদ্যুৎ ও বায়োগ্যাসসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। অন্যথায় চাপ কমবে না জ্বালানির ওপর।





