গভর্নর জানান, এই ফান্ডে ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা জমা করা হলে সংকটের সময় সরকারের বাজেটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। এছাড়া শুধু ব্যাংক নয়, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় আনা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক পুরোপুরি স্বাধীন না হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আগামী দিনেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং কার্যক্রমকে কোনোভাবেই যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশ্বের বড় ব্যাংকগুলোর কোনটি পারিবারিক ভাবে চলে না, সেগুলো প্রসাশনিক ভাবে পরিচালিত হয়।’
বিশ্বের চারটি আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত তৃতীয় স্থানে থাকলেও বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্যান্য আর্থিক খাত ক্ষতির অবস্থানে রয়েছে। এখন আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্যান্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, রাজস্ব ফাঁকির প্রধান উপায় ক্যাশ, তাই দেশে ক্যাশলেস সোসাইটি করতে পারলে বছরে রাজস্ব আদায় দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা বাড়বে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বানও জানান গভর্নর।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘এ ধরনের লোকবক্তৃতা ও একাডেমিক সম্মিলন দেশ পরিচালনা ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিগত সময়ে দেশের অর্থনীতি এবং বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত যে নাজুক অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছে, তা দেশের জনগণ ধীরে ধীরে অনুধাবন করতে পারছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ ওসমান হোসেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানসহ অনান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।





