Recent event

অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হয়েছে : অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ | ছবি: সংগৃহীত
1

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এ সময়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।’

আজ (সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে এবং অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। তবে সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো আরও বড়।’

তিনি স্বীকার করেন, এখন পর্যন্ত গৃহীত সংস্কারগুলো পর্যাপ্ত নয়, তবে সেগুলো পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে। ‘কিন্তু সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সেগুলো আরও কৌশলীভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক চাপ অনিবার্যভাবেই আসবে।

তিনি বলেন, ‘সব সময় সরাসরি ‘না’ বলা যায় না, বরং দরকষাকষির দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং অর্থনৈতিক নীতি, ব্যাংকিং আইন ও নিরীক্ষা (অডিট) নীতিমালা ব্যাখ্যা করতে হবে।’ ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বড় শিল্পগোষ্ঠীর তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (এসএমই) ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসএমই খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ‘তারা বেশি ঋণ সহায়তার দাবিদার, আর বড় ব্যবসায় ঋণ দেওয়ায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।’

আরও পড়ুন:

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর।

অনুষ্ঠানে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী ব্যাংকের নতুন পিএলসি কাঠামোর আওতায় আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘করপোরেট গভর্নেন্স নিশ্চিত করতে পরিচালনা পর্ষদকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা দেয়া উচিত।’

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন, চলতি বছরে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০-১২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে এবং আগামী বছর তা এক অঙ্কে নামিয়ে আনা হবে। খেলাপি ঋণের হার ৯ শতাংশে পৌঁছালে ব্যাংক রপ্তানি অর্থায়ন সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বক্তব্য দেন।

সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএইচ