অর্থনীতি

শীতে চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতি সচল রাখে খেজুর গাছ

শীতে চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতি চাঙা রাখে খেজুর গাছ। কার্তিকের শুরু থেকে গাছ পরিচর্যা শুরু, এরপর চলে রস সংগ্রহের কাজ।

এসময় কুয়াশার জাল ছিন্ন করে আড়ামোড়া ভেঙে প্রকৃতি চোখ মেলতে শুরু করার পরেই মাটির ভাড় কাঁধে নিয়ে পায়ে পায়ে গাছীদের ব্যস্ততা বাড়ে। গাছ থেকে রস সংগ্রহের পর শুরু হয় গুড় তৈরির তোড়জোড়।

চুলা জ্বালিয়ে কড়াইয়ে রস থেকে গুড় তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হয়। দুই ঘণ্টা যেতেই তরল রস জমাট বাঁধতে শুরু করে। সেই সাথে বদলে যায় রঙ। কিছুক্ষণ আগের রস এভাবেই গুড়ে পরিণত হয়।

চুলা থেকে নামানোর পর গরম ভাপ ওঠা আধা তরল গুড় থেকে দানাবাধা পাটালি আলাদা হয়। যার একটি অংশ রুপ নেয় গুড়ে।

চুয়াডাঙ্গার অর্থনীতিতে খেজুর গাছ বড় অবদান রাখে। কার্তিকের শুরু থেকে গাছ পরিচর্যার পর রস সংগ্রহের কাজ চলে। এখন পুরো শীত মৌসুমজুড়ে খেজুরের রস-গুড়ে বিশাল ব্যস্ততা।

গুড় প্রস্তুতকারীরা বলেন, '১০০ গাছে আমার এক থেকে দুই লাখ টাকা প্রতি বছর আসে। এই গুড়টা খুব ভালো হয়। সিলেট, ঢাকা, কুমিল্লা চট্টগ্রাম এই গুড় যায়।'

খেজুরের গুড় তৈরি ও বিক্রি করে জেলার হাজারও পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। প্রতি বছরের এই শীত মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে তারা। হাড়ভাঙা পরিশ্রম জীবিকা আর আবহমান বাংলাকে ধরে রাখতে গাছিদের অম্লান প্রচেষ্টা।

গাছিরা বলেন, 'কার্তিক মাস থাইকা চৈত (চৈত্র) মাস পর্যন্ত গাছের রস পাই। আরও ৬ মাস বইসা খাওয়া যায়।'

সরোজগঞ্জ হাটের গুড় কেনাবেচায় ব্যস্তার একাংশ

গুড় উৎপাদনে প্রথম সারিতে থাকায় দেশের অন্যতম বড় হাট বসে চুয়াডাঙ্গায়। খেজুর গুড় আর নলেন পাটালি বেচাকেনায় জমজমাট সরোজগঞ্জ হাট। মাটির ভাড় ভর্তি গুড়ের সারি থাকে।

সপ্তাহে দুইদিন সোম ও শুক্রবার এই হাট বসে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাকডাকে মুখর থাকে হাট প্রাঙ্গণ। দামদর আর কেনাবেচায় দিনের অর্ধেক সময় কেটে যায়। প্রতিহাটে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার গুড় বিক্রি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারীসহ হাজারও ক্রেতা-বিক্রেতা ছুটে আসেন। গাছের সংখ্যা কমায় গুড় উৎপাদনে ভাটা পড়েছে। হাটে সরবরাহ কমায় বেড়েছে দাম।

ব্যবসায়ীরা বলেন, '২০ থেকে ২৫ বছর যাবত হাট করি। এখানের গুড়ের মানটা ভালো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি টাকার লেনদেন হয়।'

এদিকে ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন বৃদ্ধিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা। বলেন, 'বিশুদ্ধ গুড় উৎপাদনে আমরা কৃষক পর্যায়ে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছি। তাদেরকে পরামর্শ দিয়ে উন্নতমানের গুড় উৎপাদন করাই আমাদের কাজ।'

এবার চুয়াডাঙ্গায় রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত প্রায় ৩ লাখ গাছ। যা থেকে গুড় পাওয়া যাবে আড়াই হাজার টন। চলতি মৌসুমে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার খেজুর গুড় বিক্রি হবে এই হাটে।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর