বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস বরিশাল বিভাগে। এরমধ্যে গ্রামে ২৮ দশমিক ১ ও শহরে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ দরিদ্র মানুষের বাস।
পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতে কাজ করছে টিসিবি। তবে টিসিবির পণ্য যাতে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিতে কার্ড যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ। উঠে আসে আওয়ামী লীগ আমলে দেয়া টিসিবি কার্ডে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়মের তথ্য। এতে মহানগরীতে বাদ পড়েছে ৫৮ হাজার ৪২৬টি এবং বিভাগে বাদ দেয়া হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪টি টিসিবি কার্ড।
বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় টিসিবির সহকারী পরিচালক শতদল মন্ডল বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে একটি পরিবারে কয়েকটি কার্ড, স্বামী-স্ত্রীর নামে কার্ড করা আছে। একই ব্যক্তি নামে-বেনামে বিভিন্ন জায়গায় কার্ড তৈরি করেছে। যখন আমরা এগুলো যাচাই করলাম তখন এ কার্ডগুলো বাতিল করা হয়েছে।’
বরিশাল নগরীর চাঁদমারি এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম ৬৫ বছরের পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল তার ছেলে। সেও জটিল রোগে আক্রান্ত। তাই পরিবারের ভরসা টিসিবির পণ্য। যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়েছে তার কার্ডটিও। মনোয়ারা বেগমের মত ভুক্তভোগী আছে অনেকেই। তবে প্রথমবার টিসিবির পণ্যের কার্ড পাওয়ায় আছে ভিন্ন চিত্রও।
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমি এই কার্ড চাই। আমার সন্তান বাঁচাতে হলে এ কার্ড লাগবে আমার। ওই আমলে আমি পাইছি। এই আমলে আমি পাইনি এখন পর্যন্ত।’
বিভাগীয় কমিশনার বলছেন, টিসিবির উপকারভোগী বাছাইকালে রয়েছে বেশকিছু সরকারি নির্দেশনা। বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায় ও স্বল্প আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে দিতে হবে অগ্রাধিকার। এছাড়া একটি পরিবার যাতে একাধিক কার্ড না পায় সেক্ষেত্রেও নির্দেশনা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানা হয়নি নীতিমালা।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা যখন বাছাই করতেন, তখন তারা ক্রাইটেরিয়া ভুলে গিয়ে দলীয় আনুগত্য, স্বজনপ্রীতি বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। এরকম প্রায় ১০ থেকে ১২টি কার্ড দেখেছি তালিকাতে, যেখানে লেখা আছে পেশা আওয়ামী লীগ।’
বরিশাল মহানগরীতে আওয়ামী লীগ আমলে ৯০ হাজার কার্ড বরাদ্দ ছিল। সাম্প্রতিক যাচাই-বাছাইতে টিকেছে ৩১ হাজার ৫৭৪টি কার্ড। আর বিভাগে বরাদ্দকৃত পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৮ কার্ডধারী থাকলেও বর্তমানে আছে তিন লাখ ৪৮ হাজার ১৩৪টি।