আজ (বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন।
এরপর বিলটি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’-এর ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’-এ এই বিধানটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
পরবর্তীতে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় এটি যুক্ত করা হয়েছিল।
‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন’ পাস হওয়ার পর ১৮(ক) ধারাটি বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকদের মতে, এই বিধানটি রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীন ব্যাংকগুলোর সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানায় ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করতে পারতো।
এই বিধানের আওতায়, কোনো ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে যেসব শেয়ারহোল্ডার ওই ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করতেন, তারা ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় অর্জনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন।
এছাড়া এই বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও একই সুযোগ প্রদানের ক্ষমতা রাখতো।
পাঁচটি সংকটাপন্ন ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়ার সময় এই বিধানটি বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কারণ ওই ব্যাংকগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সাবেক পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সমালোচনার মুখে সরকার পরবর্তীতে এই বিধানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
সংশোধন বিলের সাথে সংযুক্ত ‘উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে’ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ধারায় বর্ণিত পূর্ণ শর্তাবলি মেনে আবেদন করেনি, তাই এই বিধানটি বাতিল করা যৌক্তিক। এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান ‘সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন’ ২০০৯ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি ‘প্রাইভেট মেম্বারস বিল’ (সংসদ সদস্যের নিজস্ব বিল) উত্থাপনের অনুমতি চান।
অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান।
তবে নাজিবুর রহমান বিলটি প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি সংসদে ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবটি প্রয়োজনীয় সমর্থন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় ওই সংসদ সদস্যকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়নি।





