সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত মারাত্মকভাবে ফুরিয়ে যাওয়ার যেসব খবর আসছে, তা ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উৎপাদন ও গোলাবারুদ মজুত বাড়াচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা এগুলো অন্যদের কাছে বিক্রির বদলে নিজেদের জন্য রাখছি। তবে মিত্রদের কাছে আবার শিগগিরই বিক্রি শুরু হবে।’
সাবেক ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইউক্রেন ও ন্যাটোকে বিনামূল্যে শত শত কোটি ডলার দেয়া হয়েছে, যার খরচ ইউরোপ বহন করতো যদি তাদের শুধু বলতে বলা হত। কিছুটা দেরিতে হলেও আমরা এখন সেই অর্থ ফেরত চাইবো।’
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকয়ারমেন্টস লিস্ট’ নামের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো অর্থ পরিশোধ করে ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে।
গত মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে সামরিক বাহিনীতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা আগামী বছর মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির হাতে থাকবে কি না, তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের নতুন হুমকির জেরে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালিতে এখনো বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার পেছনে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলাকে আংশিকভাবে দায়ী করেছেন। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এরপর ইরানের সংঘাতের কারণে আমরা বর্তমানে জ্বালানির বড় ধাক্কা পার করছি। ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি সম্পদ ও পরিশোধিত পণ্যে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েছে।’
—রয়টার্সের প্রতিবেদন অবলম্বনে





