নিহতের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার চাচা নাজমুল হোসেন। হৃদয় করেরহাট ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এদিকে ছাত্রদল নেতা হৃদয় মারা যাওয়ার খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠে কয়লা বাজার। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। হামলায় চালানো হয়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে অবৈধভাবে আসা একটি গরু ট্রাক আটক করে স্থানীয়রা। গরুগুলো বদ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের শেল্টারে গরু নিয়ে আসছিল টিপুর ভাই সুমন। তখন ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা।
আরও পড়ুন:
চাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় সুমনকে মারধর করে সবুজ এবং তার লোকজন। তখন আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন দিয়ে বলে কয়লায় কে বা কারা তাদের গরুর গাড়ি আটকে রেখেছে বিষয়টি দেখার জন্য। তিনি ব্যস্ততার কারণে যেতে পারবে না বলে জানালে তার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলে।
তখন আব্দুল আলিম ছেলে শাহরিয়ার হোসেন হৃদয় ও আনোয়ার হোসেনকে নামে দু’জনকে বিয়ষটি দেখার জন্য কয়লা বাজারে পাঠান। ১৫ মিনিট পর তার কাছে খবর আসে ছেলে হৃদয় ও আনোয়ারের ওপর হামলা করা হয়েছে। এরপর দৌড়ে গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, ‘অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওইদিন রাতে টিপুর সহযোগী রহিম আমাকে বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাককে আটক করেছে দেখতে বলে। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত ছিলাম। যেতে অপরাগতা প্রকাশ করলে আমার ছেলেকে হলেও পাঠাতে বলে।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘এরপর আনোয়ারসহ আমার ছেলেকে কয়লা বাজারে ঘটনাটি জানতে পাঠাই। এর ১৫ মিনিট পর খবর আসে আমার ছেলের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। পাঁচ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’
এ বিষয়ে মো. টিপু অবৈধ গরু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ওইদিন রাতে আমার ভাই সুমনের মাথা ফাটিয়ে দেয় সবুজ ও তার লোকজন।’
হৃদয়ের ওপর হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘তার ওপর কারা হামলা করেছে জানি না।’
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষে আহত একজন হাসপাতালে মারা গেছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এরইমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে কয়লা এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।’





