এর আগে বেড়িবাঁধের ওপর থেকে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) দুপুর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজকালিকাপুর এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দিনের আলোতে কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজকালিকাপুর এলাকার কবির আহম্মদ, শাহ আলম, বাসপদুয়ার মিলন ও স্থানীয় ইয়াকুব এ মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত।
তারা জানান, পরশুরামে সম্প্রতি কৃষিজমি ও বেড়িবাঁধের চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর খন্ডল হাই এলাকায় পাঁচ থেকে সাতটি এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়। পরে ২০ থেকে ৩০টি পিকআপে করে সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।
তবে কবির আহাম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং বাঁধের মাটি বা বালু কাটার সঙ্গে জড়িত নন।
আরও পড়ুন:
বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু পরিবহনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতের অংশ থেকে উত্তোলিত বালু আগে বাঁধের ওপর রাখা হয়েছিল, সেখান থেকেই কয়েকদিন ধরে পিকআপে করে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিলো।
কালিকাপুর এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে শাহ আলম নামের একজনকে আটক করে উপজেলা পরিষদে নেয়া হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বেড়িবাঁধের মাটি ও বালু কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম. সাফায়াত আখতার নূর বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে জেলা প্রশাসকের ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা শিকার করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বেড়িবাঁধের মাটি কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, বন্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ বল্লামুখা বেড়িবাঁধটি চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ- দুর্নীতিবাজ একটি চক্রের কারণে বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।





