Recent event

প্রথম রোজায় চকবাজারে জমজমাট ইফতারি বাজার, ঐতিহ্যের টানে রাজধানীবাসীর ভিড়

চকবাজারে ইফতারের বাজার
চকবাজারে ইফতারের বাজার | ছবি: সংগৃহীত
0

পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার ইফতারি বাজার জমে উঠেছে ক্রেতা–বিক্রেতার ভিড়ে। জোহরের নামাজের পর থেকেই শাহী মসজিদ–সংলগ্ন সার্কুলার রোডের দুই পাশজুড়ে গড়ে ওঠা এই ঐতিহাসিক বাজারে নানা পদের ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো মানুষ সেখানে ভিড় করেন পছন্দের ইফতারসামগ্রী কিনতে।

রমজানজুড়ে পুরান ঢাকার এই বাজারে প্রতিদিন বিকেল পর্যন্ত ইফতারি বিক্রি হয়। শুধু স্থানীয় বাসিন্দা নয়, ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন চকবাজারের বিশেষ স্বাদের ইফতারির টানে। প্রথম রোজাতেই সেই চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরে এসেছে বাজারজুড়ে।

রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকা থেকে ইফতারি কিনতে আসা আবদুল হক বলেন, ‘বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতো থাকলেও মুরগি ও কোয়েল পাখির কিছু আইটেমে বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে।’ তার অভিযোগ, ক্রেতা বাড়লে অনেক সময় বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দেন।

পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ থেকে আসা ইফতারি বিক্রেতা মো. জাকির হোসেন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি নানা পদের ইফতারি বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, ‘বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক। শুধু মুরগির দাম একটু বেড়েছে, বাকিগুলোর দাম আগের মতোই আছে।’

আরও পড়ুন:

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জনপ্রিয় ইফতারির মধ্যে কোয়েল পাখির রোস্ট ৮০–৯০ টাকা, চিকেন কাঠি ৫০–৬০ টাকা, মুরগির রোস্ট ৩২০–৩৫০ টাকা এবং চিকেন ললিপপ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঠি কাবাব ও চিকেন বল ৬০ টাকা করে পাওয়া যাচ্ছে।

নান–রুটির মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, গারলিক নান ৭০ টাকা এবং স্পেশাল বাদাম নান ৮০ টাকা। ভারী আইটেমে খাসির লেগ ৮০০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব কেজি ১,২০০ টাকা ও খাসির সুতি কাবাব ১,৬০০ টাকা। গরুর কালা ভুনা প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং চিকেন তাওয়া ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়ছে আস্ত খাসির কাবাব—একটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। বিক্রেতা মো. সালেহ জানান, সবাই কিনবে না, কিন্তু দেখতেই মানুষ ভিড় করছে।

চকবাজারে ইফতারের বাজার |ছবি: সংগৃহীত

নিউমার্কেটের দোকানি মামুন হোসেন প্রথম রোজার ইফতারি কিনতে এসেছেন চকবাজারে। তিনি বলেন, ‘কিছু আইটেমে সামান্য বেশি দাম, তবে মোটের ওপর আগের মতোই। ঐতিহ্যের কারণে চকবাজারের ইফতারি নেওয়ার আলাদা আনন্দ আছে।’

বিক্রেতাদের ধারণা, রমজানজুড়ে প্রতিদিন দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ক্রেতার চাপ আরও বাড়বে। ঐতিহ্য, স্বাদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রথম রোজাতেই পুরান ঢাকার চকবাজার আবারও হয়ে উঠেছে রাজধানীর ইফতার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র।

এনএইচ