গতকাল (সোমবার, ৫ জানুয়ারি) রাতে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক তিন বিচারকের কাছে আসামিরা জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্যা (২৪) ও পলাশ সরদার (২৫)।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তারের কাছে রাব্বি মোল্যা, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী শীলের কাছে সোহাগ খান এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকলিমা আক্তারের কাছে পলাশ সরদার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙ্গা বাজারে ওষুধ ব্যবসা ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
গত বুধবার (৩১, ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন:
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলেও শনিবার (৩, জানুয়ারি) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই রাতেই নিজ গ্রাম তিলইয়ে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৩, জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্ব কৈলানপুর থানাধীন বাজিতপুর এলাকায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) যৌথ অভিযান চালিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার (৪, জানুয়ারি) রাতে তাদের ডামুড্যা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বপন মল্লিক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার দিন আসামিরা খোকন চন্দ্র দাসকে অনুসরণ করছিলেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় তার গতিরোধ করা হয়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে আহত করা হয়, এরপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এ নৃশংস হামলা চালানো হয়েছিল। আগেই হত্যার পরিকল্পনা থাকায় আসামিরা সঙ্গে পেট্রোল বহন করছিল। খোকন চন্দ্র দাসের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে ওই রাতেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।





