২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সাগর রুনিকে হত্যার সময় ছোট্ট মেঘের বয়স মাত্র চার বছর। দেখতে দেখতে মেঘ বড় হয়ে এখন সতেরোতে। ছোট্ট শিশুটি এখন বাবা-মা হত্যার বিচার চাইতে শিখেছে, কিন্তু সাগর রুনি হত্যার বিচার তো আলোর মুখই দেখেনি, বরং ১৩ বছরে তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়েছে ১১৫ বার। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চায় মেঘ।
সাগর-রুনির ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘ বলেন, ‘আগে তো কিছুই হতো না। এখন দেখছি তারা কাজ করছেন। আশা করছি পজিটিভ কিছু শুনতে পারবো।’
তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন ২৪ ঘণ্টায় দোষীদের খুঁজে বের করার আশ্বাস দিলেও ২০১২ থেকে ১৮ ছয় বছর র্যাবের হাতে থাকা তদন্তের ফল ছিল ‘শূন্য’। সাগর রুনি পরিবারের অভিযোগ, সরকার সংশ্লিষ্টরা জড়িত বলেই, এগোয়নি তদন্ত।
নিহত রুনির ভাই নওশের রোমান বলে, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তারা অনেকবার আমাদের সাথে কথা বলেছেন। আসলে তদন্ত তো আমাদের বোঝার কথা না। তদন্ত কী হচ্ছে সেটা আমরা জানিও না। তবে সবকিছু মিলিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাই।’
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পাওয়ার গত সেপ্টেম্বরে র্যাবের কাছ থেকে মামলার তদন্তে গঠন করা হয় উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স। আগামী ৪ এপ্রিল টাস্কফোর্সকে তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দিতে বলা হয়েছে৷ এই মামলা তদন্তে কারা বাঁধা সৃষ্টি করেছেন তা বের হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইনজীবী।
সাগর-রুনির আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘১৩ বছরে অনেক সাক্ষ্য প্রমাণই ডিজঅ্যাপিয়ার হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে। সব কিছুর পর একটা আমার আলো দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করি হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তারা একটা গ্রহণযোগ্য এবং সত্যিকার অর্থে বিচার পরিচালনা করার জন্য উপযুক্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করবেন।’
মঙ্গলবার ডিআরইউ আয়োজিত ১৩ বছর পূর্তিতে প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিকরা বলেন, সাগর রুনি শুধুমাত্র একটা হত্যাকাণ্ড নয়, এটা বিচারহীনতা ও সাংবাদিকদের টুঁটি চেপে ধর। ২০২৫ সালের মধ্যেই সাগর রুনি হত্যার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করার দাবি জানান সাংবাদিকরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত ১৩ বছরে সাগর-রনি হত্যাকাণ্ডে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। মামলার তদন্ত আইনি ভাবে চলতে দেয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করবেন এমন প্রত্যাশা সবার।