ইউরোপে যাচ্ছে যশোরের সবজি, বাড়ছে রপ্তানি

সবজি চাষ
সবজি চাষ | ছবি: এখন টিভি
0

প্রতি মৌসুমে যশোরে উৎপাদিত প্রায় হাজার টন সবজি রপ্তানি করা হচ্ছে বিদেশে। ইউরোপের ইটালি ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে সবজি রপ্তানি হওয়ায় খুশি এলাকার চাষিরা।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরে দিন দিন বাড়ছে সবজির উৎপাদন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয় বিভিন্ন প্রকার সবজি। সীমানা পেরিয়ে এখন রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলার ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বছরের দুই মৌসুমে ৬ লাখ টন সবজি উৎপাদন হয়। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় জেলার চুড়ামনকাটি, বারীনগর, হৈবতপুর ও কাশিমপুরের পাশাপাশি মনিরামপুর, কেশবপুর এবং বাঘারপাড়ায়।

সবজি উৎপাদন রপ্তানিকারক একজন বলেন, ‘এখানে উত্তম কৃষি চর্চা অবলম্বন করে উনারা চাষাবাদটা করেন। করেন বিধায় আমরা এখান থেকে মালটা নিয়ে সুন্দরভাবে রপ্তানি করতে পারি এবং আমাদের রপ্তানিতে কোনো ধরনের এটাকে ডেসট্রাকশন বা কোনো অবজেকশন বিদেশ থেকে সাধারণত আসে না।’

আরও পড়ুন

উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় হেইফার ইন্টারন্যাশনাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশে সবজি রপ্তানি উদ্যোগ নেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ মৌসুমে ১ হাজার টন পটল, লাউ, কচুরমুখি, কচুর লতি, চাল কুমড়া, পেঁপে, ঝিঙে, ধুন্দল রপ্তানি করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

যশোর হেইফার ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা যায়, সে ব্যাপারে বিভিন্নভাবে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং এখন আপনারা দেখছেন মাঠে পটল রয়েছে, কাঁকরোল রয়েছে। এ পটল বিদেশে রপ্তানি করার জন্য আমাদের মেইন উদ্দেশ্য। বিদেশে রপ্তানি করছি এইজন্যই যে কৃষকরা যাতে সঠিক দাম পায়।’

কৃষকদের জমিতে ফ্রেমন ট্রাপ, হলুদ ফাঁদসহ বালাইনাশক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়েছে। বিষমুক্ত এসব সবজি পাঠানো হচ্ছে বিদেশে- এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

হেইফার ইন্টারন্যাশনালের উপ-পরিচালক পলাশ কুণ্ডু বলেন, ‘জলবায়ু বান্ধব যে কৃষি, সেইটা আমরা তাদেরকে শিখিয়েছি। আমরা এ সিজনে আশা করছি আরও ১০০ মেট্রিক টন পটল, লাউ, তারপরে কাঁকরোল, পেঁপে—এই ধরনের যে সবজি, এটা বাইরে ভালো চাহিদা আছে, সেগুলো আমরা রপ্তানি করতে পারব।’

যশোর হেইফার ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মনিরা সুলতানা বলেন, ‘তার প্রতিদিন যে বাজারে বিক্রি করার টেনশন, ওইটা এখানে থাকতেছে না। এখানে লিংক যারা হচ্ছে, যেদিন দুইটা ডেট করা হচ্ছে যে এ দুইটা ডেটে এখানে হবে, বায়াররা এখানে আসতেছেন এবং তারা কিন্তু ক্যারিং কস্টটা অনেকটা কমে যাচ্ছে।’

সবজি বিদেশে রপ্তানিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন কৃষি বিভাগ। রপ্তানিযোগ্য সবজি উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের সবজিও এরই মধ্যে বাইরের দেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। তো আমরা চেষ্টা করছি যাতে আমরা গ্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো সবজি উৎপাদন করতে পারি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা এগুলো যাতে এক্সপোর্ট করতে পারি এবং এক্সপোর্ট করতে পারলে আমাদের কৃষক ভাইয়েরাও অধিকতর লাভবান হবে।’

ক্ষেতের উৎপাদিত সবজি বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় খুশি যশোর অঞ্চলের কৃষকরা। দেশের মোট চাহিদার ৬৫ ভাগ সবজির যোগান দেয় যশোর। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশ থেকে ৫৮ হাজার ৭শ' ৬৬ টন সবজি বিদেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে ৮শ' থেকে ১৫শ' টন সবজি রপ্তানি হয় যশোর থেকে।

জেআর