ঋণের টাকায় কেনা ভ্যান চুরি; জীবিকার সম্বল হারিয়ে দিশাহারা কিশোর

কিশোর রাজ ও তার বাবা
কিশোর রাজ ও তার বাবা | ছবি: এখন টিভি
0

মাত্র ১৩ বছর বয়স। এই বয়সে যেখানে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেখানে বাবার অসুস্থতায় পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে কিশোর রাজ। সংসার চালাতে একমাত্র সম্বল ছিলো ঋণের টাকায় কেনা ভ্যান। সেই ভ্যানই প্রতারকদের ফাঁদে হারিয়ে এখন দিশেহারা রাজ ও তার পরিবার।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের জিকে ক্যানাল এলাকায় বসবাস কিশোর রাজের।

রাজের বাবা বাহাদুর হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজ করার মতো শারীরিক সক্ষমতা নেই তার। সংসারে মা ও দুই ছেলেকে নিয়ে চারজনের পরিবার। অভাবের কারণে স্কুলের গণ্ডি পেরোনো হয়নি রাজের।

মাসখানেক আগে একটি এনজিও থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কেনা হয়েছিলো ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি। সেই ভ্যান চালিয়েই চলছিলো সংসার, পরিশোধ হচ্ছিলো সাপ্তাহিক কিস্তির টাকাও।

কিন্তু গতকাল (শুক্রবার, ১৭ জুলাই) দুপুরে ভেড়ামারা থেকে মালামাল বহনের কথা বলে এক প্রতারক ভ্যানটি ভাড়া করেন বলে জানা যায়। বিভিন্ন জায়গা ঘুরিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি রাজকে নিয়ে আসেন কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে।

আরও পড়ুন: ‎

এরপর পাশের একটি দোকান থেকে পান কিনে আনতে বললে সরল বিশ্বাসে রাজ দোকানে যায়। ফিরে এসে দেখে যাত্রী নেই, নেই তার উপার্জনের একমাত্র সম্বল ভ্যানটিও।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও ভ্যানটির কোনো সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ভ্যানটি ফিরে পাওয়ার আশায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করে রাজ ও তার বাবা বাহাদুর।

এ ঘটনার প্রসঙ্গে কথা বলতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাহাদুর হোসেন। তিনি বলেন, ‘হার্টের অসুখ নিয়ে আমি কাজ করতে পারি না। ছেলের ভ্যান চালানোর আয়েই কোনোমতে সংসার চলতো। এখন ভ্যানও নেই, আয়ও নেই। প্রতি সপ্তাহে এনজিওর কিস্তি দিতে হবে। কীভাবে সংসার চালাবো, কীভাবে ঋণ শোধ করবো— কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা এখন একেবারে নিঃস্ব।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে ভ্যানটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএইচ