নিহত শ্রমিকেরা হলেন; সময় রুমেল (২৫) ও শফিকুল ইসলাম (২৮)। নিহত রুমেল নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার বাসিন্দা। অপর নিহত শফিকুল ইসলাম খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামের ফারুক গাজীর ছেলে। তারা যথাক্রমে সিভিল হেলপার ও মেকানিক্যাল ওয়েল্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারা মূলত ইটিপি প্লান্ট নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী।
ময়মনসিংহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, ‘সকালে রুমেল ইটিপি প্ল্যান্টের একটি গর্তে মেরামতের কাজে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করতে নিচে নামেন সহকর্মী শফিকুল ইসলাম। তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।’
আরও পড়ুন:
এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের স্যানিটারি প্ল্যান্টের ম্যানেজার অভিনাশ কুন্ডু বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, ইটিপি প্ল্যান্টের গর্তে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি।’
তবে কারখানার কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দুই শ্রমিক দীর্ঘ সময় গর্তের ভেতরে পড়ে থাকলেও তাদের উদ্ধারে তাৎক্ষণিক কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিলো বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি বা উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিলো কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’





