পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে ভূমিহীন মানুষের জন্য গড়ে তোলা- স্বপ্নের ঠিকানা। কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই স্বপ্নের আবাসন এখন অনেকটাই জনশূন্য।
নড়িয়ার চরআত্রা ইউনিয়নের খাসবাজার এলাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ একর খাস জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয় ১০০টি আধাপাকা ঘর। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, বারান্দা, টয়লেট এবং বিদ্যুৎ সংযোগ। নিরাপদ পানির জন্য একাধিক গভীর নলকূপও রয়েছে।
প্রকল্পের ১০০টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে বসবাস করছে মাত্র ১১টি পরিবার। এর মধ্যে মাত্র ৩টি পরিবার প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত। বাকিরা অন্য জেলা থেকে কৃষিকাজের জন্য এসে এখানে ঠাঁই নিয়েছেন। তাদেরই একজন তাসলিমা বেগম। ঠিকানা হারা অসহায় এই নারী মেয়েকে নিয়ে থাকেন আশ্রয়ণের ঘরে।
আরও পড়ুন
তাসলিমা বেগম বলেন, ‘খিজা বেগমের নামে ঘর। দলিলও তার নামে। সে এখানে ছিলো। এখন আমি থাকি।’
প্রকল্পের ঘরগুলো দীর্ঘদিন জনশূন্য থাকায় বেশিরভাগেরই দরজা-জানালা, টিন, বৈদ্যুতিক তারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে অনেক গভীর নলকূপও। পরিত্যক্ত ঘরগুলোর ভেতরে জমেছে ময়লা-আবর্জনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা কিছুই নাই। এখানে কেউ থাকে না তাই তারা থাকছেন।
ঘরগুলো ইংরেজি ‘100’ সংখ্যার আদলে নির্মাণ করা। অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে নান্দনিক এ পরিকল্পনা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘যারা থাকছেন না, দীর্ঘ সময় ধরে ঘর ফাঁকা রাখার কারণে তাদের বন্দোবস্তটা আমরা বাতিলের প্রস্তাব করব। উপজেলা কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা কমিটিটা আমরা খুব শীঘ্রই সচল করে এ ধরনের যে বিষয়গুলি আছে সেই বিষয়গুলো মেরামতসহ অন্যান্য সংস্কার মেরামত যদি প্রয়োজন পড়ে থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা সুনির্দিষ্ট করে প্রস্তাব দেব।’
ভূমিহীন মানুষের জন্য নির্মিত এ প্রকল্পে এখন মানুষের চেয়ে পরিত্যক্ত ঘরের সংখ্যাই বেশি। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো রক্ষা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।




