নিহত মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবার বদরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের গ্রামের বাড়ি লাকসামে। তার পিতা বিল্লাল হোসেন ও মা কোহিনুর বেগমের সঙ্গে নানার বাসা মফিজাবাদ কলোনীতে মামার বিয়ের দাওয়াত শেষে বাসায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘রিকশা না পেয়ে আমরা হেটে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় বেশি পানি তাই ফুটপাথ ধরে হাটার সময় হঠাৎ স্মৃতি হাত থেকে ছুটে যায়। এসময় ড্রেনে তলিয়ে যায় সে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রাতে কুমিল্লাজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন সড়কে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ সময় ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় জলাবদ্ধ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনের পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি।
তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে ড্রেনের বিভিন্ন অংশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর ঘটনাস্থল থেকে ৫০ ফুট দূরে ড্রেনের ভেতরে একটি হাত আটকে থাকতে দেখে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার দিন ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছিল এবং বেশ কয়েকটি ড্রেনের ঢাকনা (স্ল্যাব) খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খোলা ড্রেনের অংশটি পানির নিচে ঢেকে যায়। কোনো সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় এবং ড্রেনটি উন্মুক্ত থাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা এ অবহেলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ড্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নগরীর ফুটপাথগুলোতে অনেক স্থানে স্ল্যাব না থাকার কথা স্বীকার করেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। দ্রুত এগুলো স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি। স্মৃতির মৃত্যুটিকে মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করে তিনি জানান, নিহতের দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার পরিবারকে ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। কেউ যদি সিটি করপোরেশনে চাকুরী করতে চায় তাকে চাকুরীর ব্যবস্থা করা হবে।
স্মৃতির মৃত্যুটি একটি দুর্ঘটনা মন্তব্য করে দুঃখ প্রকাশ করেন সিটি করপোরশেনর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভূঁইয়া। তিনি বলেন জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিরলস কাজ করছে। ড্রেন থেকে বস্তা, প্লাস্টিক ও পলিব্যাগ উদ্ধার করা হচ্ছে। অসচেতনভাবে এসব ফেলা হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতে বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।





