দাম কমলেও নাগালের বাইরে ইলিশ, ক্রেতাশূন্য মাছঘাট

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট বাজার
চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট বাজার | ছবি: এখন টিভি
0

ইলিশের আকাশছোঁয়া দামে ক্রেতা বিমুখ চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট। দাম কিছুটা কমলেও সাধারণের নাগালের বাইরে ইলিশ। মৌসুমের শুরুতেও কাঙ্ক্ষিত মাছের দেখা নেই। সরবরাহ কমায় ঐতিহ্যবাহী এ পাইকারি বাজারের কার্যক্রমও কমে গেছে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন, মাছঘাট। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে তাজা ইলিশ কিনতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন ক্রেতারা। তবে কয়েক বছর ধরে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে ইলিশের সরবরাহ। মাছের আকাশছোঁয়া দামে ক্রেতা বিমুখ বাজারটিও। সম্প্রতি মাছের দাম কমলেও বাড়েনি ক্রেতা। বিক্রেতারা জানান, যখন লাগছে, তখন নিয়েছে কিন্তু এখন আর কেউ নিচ্ছ না।

একজন ক্রেতা বলেন, ‘দাম কমার পরেও ২৭০০-২৮০০ টাকা হলে, আমাদের মতো সাধারণ পাবলিক এ মাছ খাওয়া সম্ভব না ইলিশ মাছ।’

পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় সংকট কাটছে না জেলেদেরও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টেনেও মিলছে না ইলিশ। এদিকে বেড়েছে জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক খরচ। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন সেই চিন্তা তাদের।

জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সংসার করতে হবে ঋণ করে। এ চিন্তাভাবনা নিয়ে টেনশন আছি। আর ছেলে মেয়ের পড়াশোনা নিয়েও চিন্তায় আছি।’

একসময় নিলামের ডাক আর পাইকারের হাঁকডাঁকে মুখর থাকতো মাছ বাজার। কিন্তু সরবরাহ কমায় অনুপস্থিত সেসব কোলাহল। কোটি টাকা চালান খাটানো আড়ৎদারদের ব্যবসাও যেন থমকে গেছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার বলেন, ‘৫০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি প্রতি কমেছে। কিন্তু কমার পরেও মানুষ কিনছে না। কারণটা হলো কী যে, কমেছে, কতটুকু কমেছে এখনো কিন্তু সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।’

নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া গেলে দ্রুত সংকটও কেটে যাবে বলে আশা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দাম, দামের মানে বাড়তি আরকি, এর জন্য হয়তো জনগণ কম আসতেছে। বৃষ্টি এখন একটু বন্ধ আছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টি যদি শুরু হয়, নদীর নাব্যতা আর স্রোত বাড়লে ইলিশের প্রোডাকশন আশা করি বাড়বে।’

বর্তমানে এই বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৯০০ থেকে ২২০০ টাকায় এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকায়।

জেআর