দিনাজপুরে আনার চাষে সফল দুই উদ্যোক্তা

আনার বাগান
আনার বাগান | ছবি: এখন টিভি
0

এক সময় দেশের বাজারে বিদেশি ফল হিসেবেই পরিচিত ছিলো আনার। সেই ফলই এখন দিনাজপুরের মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা। প্রায় পাঁচ বছর আগে কয়েকটি আনারের চারা দিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। আজ সেই উদ্যোগই পরিণত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আনার বাগানে। তাদের হাত ধরে এখন দিনাপুরের আনারের বাগানের জমির পরিমাণ প্রায় ১৭ হেক্টর।

সদর উপজেলার বেলবাড়ী গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন একর জমি জুড়ে গড়ে উঠেছে আনার বাগান। শুরুতে নানা সংশয় ছিল। প্রথম বছর কোনো ফলও পাওয়া যায়নি। তবে ধৈর্য হারাননি উদ্যোক্তারা। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই বাগান থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকার আনার বিক্রি হয়েছে। এবার তাদের প্রত্যাশা আরও বড়—প্রায় ৫০ লাখ টাকার ফসল বিক্রির।

উদ্যোক্তা মো. নাদিম বলেন,‘আমাদের ফলের রেজাল্ট সন্তোষজনক হওয়ায় এবং কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি সাহেব সবাই আসার পর আমরা টেস্ট করে দেখি যে আমাদের ফলের যে কোয়ালিটি এটা মানসম্মত। মানসম্মত হওয়ার পর আমরা চারা তৈরি করি, চারা তৈরি করে অনেকেই আমাদের কাছ থেকে বাগান করার জন্য চারা নিচ্ছেন।’

শুধু ফল বিক্রিই নয়, এখন এই বাগান হয়ে উঠেছে আনার চারা উৎপাদনেরও একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র। উদ্যোক্তাদের দাবি, তাদের কাছ থেকে চারা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় এরই মধ্যে প্রায় ৩০টি নতুন আনার বাগান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন কৃষক ও উদ্যোক্তা পরামর্শ নিতে আসছেন।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘আনারস বাগান হয়েছে, এজন্য দেখতে আসলাম। খুব ভালো লাগলো। আর আমি আনারসের চারা নিতে আসছি।’

এ বাগানের প্রতিটি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। সঠিক সেচ, ছাঁটাই এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কারণেই গাছগুলোতে মিলছে ভালো ফলন।

উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আনারসের চারা বিক্রি করি। আর আমাদের যদি মূলতভাবে একটা ছোট মিনি ক্লাস্টার হয়, এ ক্লাস্টার হলে আমাদের আনারসটা আরও বাজারজাত করতে বেশি চাহিদা হবে।’

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও দিনাজপুরের আবহাওয়া ও মাটি আনার চাষের জন্য আশাব্যঞ্জক। প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকলে এই ফল দেশের নতুন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু বোরহান বলেন, ‘কৃষি বিভাগ এখানে কারিগরি সহায়তাটুকু দিয়ে থাকে। ফসলের রোগ এবং পোকা যাবতীয় আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। গত বছর ফলন খুব ভালো হয়েছে এবং প্রচুর পরিমাণও আনারসের চারা বিক্রি করছে। এবার আবহাওয়াজনিত কারণে মোটামুটি তাও এখন, এখন পর্যন্ত ভালো আছে।’

দেশের সবচেয়ে বড় এ আনার বাগান এখন শুধু একটি সফল কৃষি উদ্যোগ নয়, বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার প্রতীক। আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানিরও স্বপ্ন দেখছেন উদ্যোক্তারা।

জেআর