পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার, ১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহত কালু ওই এলাকার সোনা বিশ্বাসের ছেলে। সে ‘কালু বাহিনী’র প্রধান ও চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী ও মাদক মামলা রয়েছে।
মাত্র দুই-তিন দিন আগে জেল থেকে জামিনে বের হয়ে কালু স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী একজোট হয়ে তাকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, আজ (শনিবার, ১৩ জুন) দুপুরে বরগুনা সদরের নলী এলাকায় নিজ বাসা থেকে সালেহা বেগম (৯৩) নামের এক বৃদ্ধার এবং সকালে বামনা উপজেলায় চাচার বাসা থেকে আবীর (১৭) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের জেরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেলেও নিহতের বোন নাফিজা একে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আজ সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
বরগুনার এই সার্বিক পরিস্থিতি ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘গত কয়েক দিনের ঘটনাগুলো পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং র্যাবের সদস্যরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে যেসব ঘটনা আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে কোনো হত্যাকাণ্ডের মোটিভ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
জেলায় শান্তি ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পুলিশ জানায়, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।





