ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে নজরুল রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার ওপরে নাই। কবি বলেছেন, যারা গুণ্ডা, ভণ্ড, তারাই ধর্মের আবরণে রাজনীতি করে।’
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলেন কবি। যারা নজরুল চর্চা করেছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন নজরুলের গভীরতা ঠিক কতটা। বাংলাদেশের মানুষ নজরুলকে ভালোবেসেছে, তাই এদেশের মানুষ নজরুলকে ভুলতে পারবে না।’
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের মাটিতে দাঁড়িয়ে নজরুল সম্পর্কে কথা বলা দুঃসাহসের বিষয়। ময়মনসিংহের মাটিতে বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ জন্ম নিয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল মনসুর আহমেদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, চন্দ্রাবতী, হুমায়ুন আহমেদ, হেলাল হাফিজ, জগদীশচন্দ্র বসু, ৫২-এর ভাষা সৈনিক আব্দুল জব্বার প্রমুখ। কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন তাদের মধ্যেও উজ্জ্বল নক্ষত্র। নজরুল ছিলেন সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, ধনী-গরিব খেটে খাওয়া ভুখা মানুষের কবি, বিদ্রোহী কবি।’
তিনি বলেন, ‘কবি নজরুল ছিলেন সাহিত্য গগনের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাকে, যার সাহিত্যকর্মকে এ উপমহাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পিএইচডি ডিগ্রির থিসিসের বিষয় হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে। নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে স্কুলে ভর্তি হন। ফার্সি ভাষায় তিনি ৯৮ নাম্বার পেয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম নিজেই একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান।’
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পার্ট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, ময়মনসিংহ-০৭ ত্রিশাল আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী, এনডিসি, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভার শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।





