রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হওয়ায় সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি। প্রায় দুই বছর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে ওই জমিতে পাট চাষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরকারি এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতরে পাট চাষকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে জমি, সীমানাপ্রাচীর ও চাকরির প্রতিশ্রুতির এক জটিল গল্প। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার চরণ—‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান হইবে টানা’— লাইনটির যেন বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এ বিদ্যালয়।
জানা যায়, জমিটির মালিক সাহেব আলী মোল্লা হলেও দেখভাল করেন তার ভগ্নিপতি কালাম খান। মূলত কালাম খানের ছেলে সজীব খানকে চাকরি দেয়ার কথা ছিলো বলে দাবি পরিবারের।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ১৯৭৭ সালে রতনদিয়া ইউনিয়নের মুরারীখোলা গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয় স্থাপিত এবং বাকি ১৬ শতাংশ কিছুটা দূরে অবস্থিত।
গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি রেললাইন ও বাঁধের রাস্তার মাঝামাঝি ফসলি মাঠের মধ্যে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের চারপাশে রয়েছে পাকা সীমানাপ্রাচীর। মাঠের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে পাটক্ষেত। এছাড়া বিদ্যালয়ের উত্তর-পূর্ব পাশে একটি ভাঙা টিনের ঘর ও তার ভেতরে রয়েছে দু’টি চুলা।
আরও পড়ুন:
টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের মাঠে খেলাধুলা করতে দেখা গেলেও অনেকেই জানায়, মাঠের ভেতরে পাটখেত থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারছে না। অনেক শিক্ষার্থী ভয় পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে। এছাড়া দ্রুত মাঠ থেকে পাটক্ষেত অপসারণের দাবিও জানিয়েছে তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার খানম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় জমির এক পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থাকায় আইল সোজা হচ্ছিলো না। তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি সাবেক রেলমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমও জানতেন।’
কালাম খান বলেন, ‘প্রথমে আমি জমি দিতে রাজি হইনি। পরে আমার ছেলেকে দপ্তরির চাকরি দেয়ার কথা বলায় রাজি হই। শর্ত ছিলো চাকরি হওয়ার পর জমি রেজিস্ট্রি করে দেবো। কিন্তু চাকরি না দিয়েই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। বাধা দিলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা থামিয়ে দেয়। এখনো চাকরি হয়নি, তাই আমি জমিতে আগের মতোই চাষাবাদ করছি।’
রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসিনা পারভীন বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের আগে জমির মালিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিলো। জমিদাতা পক্ষের একজনকে কোথাও চাকরির ব্যবস্থা করার কথা উঠেছিলো। পরে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেটি আর হয়নি। এখন আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া প্রয়োজন।’
কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘জমিটি এখনও ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং তারা সেখানে চাষাবাদ করছেন। বর্তমানে পাট গাছ বড় হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’





