বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে নাভিশ্বাস জনসাধারণের। টানা লোডশেডিংয়ে ব্যাহত সেচকাজও। বিদ্যুতের ঘাটতি, লোডশেডিং আর বিপুল বকেয়ার চাপে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
গ্রাহকের কাছে বাড়ছে কোটি কোটি টাকার বকেয়া বিল। কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলায় বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড়শো কোটি টাকা, যার বড় অংশই আটকে আছে সরকারি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাছে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লা হয়ে ১৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। বাকি চাহিদা পূরণ করা হয় জাতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে।
তবে বিপুল ব্যয়ে বিদ্যুৎ আমদানি ও সরবরাহ বজায় রাখলেও পিডিবি কুমিল্লা জোনে বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা। শুধু চাঁদপুর পৌরসভার কাছেই জমেছে ১৯ কোটি টাকার রেকর্ড বকেয়া।
আরও পড়ুন:
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার কাছে বকেয়া রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৯ লাখ টাকা। রেলওয়ে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মডেল মসজিদগুলোর কাছেও বকেয়া রয়েছে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিল।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘সিটি করপোরেশনে উনাদেরকে আমি বলে দিয়েছি এখন থেকে যেন কোনো বকেয়া না পড়ে। এখন থেকে যেন যে বিল আসে সে বিলটি যেন সব সময় পরিশোধ করা হয়। বকেয়া যে বিল রয়েছে সেখান থেকেও যেন কিছু কিছু করে টাকা পরিশোধ করে দেয়া যায় সেজন্য আমি নির্দেশনা দিয়েছি।’
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘অতীতে যারা দায়িত্বে ছিল বিদ্যুৎ বিল না দেয়ার কারণে এই বকেয়াটা বেড়েছে। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা রেগুলার বিল দিয়ে যাবো আর বকেয়া থেকেও আমরা কিছু দেবো।’
জনসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ।
আরও পড়ুন:
কুমিল্লা অঞ্চলের পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘তারা কিছু কিছু পরিশোধ করছে। আবার বাজেটের ঘাটতির কারণেও পরিশোধ করতে পারছে না। তো আমরা হলো বকেয়া আদায়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
কুমিল্লা অঞ্চলের পিডিবি প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির বলেন, ‘তাদেরকে বকেয়া পরিশোধের জন্য চিঠিপত্র দেয়া হয়। আমরা তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে যাচ্ছি বকেয়া পরিশোধের জন্য।’
কুমিল্লা-২ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘তিনটি মডেল মসজিদই বকেয়া আছে। এখানে প্রায় বকেয়ার পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা। এটা দীর্ঘদিনের বকেয়া, কনস্ট্রাকশন পিরিয়ড থেকে শুরু করে এখন চলমান পর্যায় পর্যন্ত। এগুলো নিয়ে প্রতিনিয়তই কথা হয়।’
অগ্রিম বিল দিয়ে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হয় প্রিপেইড মিটারে। অন্যদিকে বিল না দিলেও কারণ দর্শানো বা চিঠি নোটিশ ছাড়া সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সুযোগ নেই পোস্টপেইড মিটারে। ফলে বাড়ছে বকেয়া বিলের অংক।




