দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার নদীতে জেলেদের জাল

ভোলার মাছের বাজার
ভোলার মাছের বাজার | ছবি: এখন টিভি
0

দুই মাসের অভয়াশ্রমে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মধ্যরাত থেকেই ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। দীর্ঘ বিরতির পর নদীতে জাল ফেলতে পেরে স্বস্তি ফিরে এসেছে তাদের মাঝে। তবে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় হতাশার কথাও জানিয়েছেন তারা।

সকাল হতেই নদী পাড়ের মাছঘাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির নদীর মাছ বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দামও চড়া রয়েছে।

বর্তমানে ভোলা নদী পারের মাছঘাটে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা। অন্যান্য নদীর মাছের সরবরাহ কম থাকায় সেগুলোর দামও বেশি।

জেলেরা বলছে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার পর ভোলার মেঘনা তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ সহ নদীর মাছ কম থাকা পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পরেছেন তারা। এ ছাড়াও নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় লাভের মুখ দেখা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলেদের একজন জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোর ৪টায় মেঘনা নদীতে গিয়ে জাল ফেলেছেন। তিন ঘণ্টা জাল ফেলে কিছু সংখ্যক পোয়া মাছ ও ছোট আকারের ৭টি ইলিশ পেয়েছে, ঘাটে এসে বিক্রি করেছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এতে জ্বালানি তেলের টাকা ও সহযোগীদের খরচ নিয়ে চিন্তিত তিনি।

আরও পড়ুন:

ষাটোর্ধ আরেকজন জেলে বশির বলেন, ‘বিগত সময় নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ নিয়ে ঘাটে উঠতে পারতাম না। বেপারীরাও বিক্রি করে দম ফেলার সময় পেতো না। কিন্তু গত ৫ বছর নিষেধাজ্ঞার পরে আগের মতো আর নদীতে মাছ পাওয়া যায় না।’

এ ঘাটের আড়ৎদার নাছিম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় ঢাকা, বরিশালের মোকাম থেকে টাকা এনে ঘাটের জেলেদের দাদন দিয়েছিলাম নিষেধাজ্ঞা শেষে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশসহ নদীর মাছ দেয়ার কথা বলে। কিন্তু এখন জেলেরা নদীতে গিয়ে তেমন মাছ পাচ্ছে না। যাও ইলিশ পাচ্ছে তাও আকারে অনেক ছোট। আমরা মোকামের চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ সরবরাহ করতে পারছি না। এছাড়া নদীর মাছ কম থাকায় জেলেরা ধারদেনায় জরিয়ে পরছে।’

এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়নে জেলায় মোট ৫৫৬টি অভিযান ও ৮১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার করা মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে পানি বেড়েছে। এতে আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই জেলেরা পর্যাপ্ত ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পেতে শুরু করবেন।’

এফএস