গেলো বুধবার দুপুরে সিঙ্গুরিয়া গ্রামের সিয়াম ব্রিকসের বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়। এতে আশপাশের অন্তত ১০০ বিঘার জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
বোরো মাঠে ধানের শীষ বের হয়েছে। কোন ক্ষেতে এক সপ্তাহ পর, আবার কোথাও দুই সপ্তাহ পর ধান কাটা শুরু হতো। তবে এসব ক্ষেতের আশপাশে ৪টি ইটভাটা থাকায় ধান নষ্ট গেছে। কৃষকরা বলছেন, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এতে প্রতিবছরই উৎপাদন কমছে। অনেকেই ঋণ করে বোরোর চাষ করলেও সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সরকারের সহযোগিতায় ক্ষতিপূরণ চান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ইটভাটার আগুনের ধোঁয়ায় ধান পুড়ে গেছে। এই যে আগুন শেষ তো, আগুন শেষ হওয়ার কারণে এই যে ধোঁয়াটা যে ধানের ওপর পড়ছে, তার কারণে এই ক্ষতিটা হইছে।
এ বিষয়ে জানতে ইটভাটায় গিয়েও ভাটা মালিককে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য চাইলে ফোন কেটে দেন এই ব্যক্তি।
সিয়াম ব্রিকসের ভাটা মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অতটা ক্ষতি হয় নি। হালকা কিছু হয়েছিলো সেটা শেষ হয়েছে।’
আরও পড়ুন:
পরিবেশবিদরা বলছেন, বনভূমি উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা করায় কার্বনডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্টসহ পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও বাধার সৃষ্টি করছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, বাতাসে কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। তো বলা চলে যে এই সনাতন পদ্ধতিতে যে ইট তৈরি হচ্ছে তার পুরোটাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।’
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ইটভাটার কারণে কৃষকদের অন্তত ১০০ বিঘা জমির ধান পুড়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কয়েক দফা মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণ পেতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইলের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘খড়ের দাম হিসাব করে বাই-প্রোডাক্ট হিসাব করে ফিফটি লাখের কাছাকাছি আপনার কৃষকের মতো ক্ষতি হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ পূর্ণ সমর্থন তাদেরকে দেব এবং কি সহযোগিতা করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সেই চ্যানেলে তাদেরকে হাটতে বলবো।’
ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বারবার ক্ষতির শিকার হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়বে খাদ্য উৎপাদনও।





