রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষ নির্ভরশীল রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা ফেরি ফেরির ওপর। স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও পর্যটকদের জন্য তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজারে যাওয়ার এই পথটি বেশ জনপ্রিয়।
ফেরির মাধ্যমে দৈনিক কয়েক হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। তবে ফেরি বিড়ম্বনায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি লেগেই থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ছোট ছোট সাম্পানে যাতায়াত করেন। ফেরি বিড়ম্বনায় যোগাযোগ ও কৃষি বাণিজ্যে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। ১৯৮৪ সালে ফেরি চালুর পর থেকে বিগত সরকারগুলো সেতু অথবা টানেল নির্মাণের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফেরি যাত্রীরা জানান, ফেরি যদি পড়ে থাকে আমরাও পড়ে থাকি। তখন আমাদের অনেকক্ষণ সময়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যেমন একটা পেশেন্টের ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন হয় কিংবা গর্ভবতী মায়েদের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়া করতে পারে না। সরকার যদি আমাদের সুন্দর একটা ব্রিজ করে দিতেন তাহলে আমাদের খুব ইয়া হয়, সুবিধা হয়।
আরও পড়ুন:
দুর্ভোগ কমাতে রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উদ্যোগে দেশের প্রথম চার লেনের কেবল স্টেইড সেতু নির্মাণ হতে চলেছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩২ মিটার দীর্ঘ চার লেনের সেতু নির্মাণ হবে এখানটায়। থাকবে টোল প্লাজা, স্থাপন করা হবে ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই সেতুর সুফল মিলবে। প্রকল্পটি বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে রয়েছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘ক্যাবল স্টেড ব্রিজ সর্বপ্রথম বাংলাদেশে এই কর্ণফুলী নদীর ওপরে চন্দ্রঘোনা নামক জায়গায় নির্মিত হবে এবং এটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু। এবং এই সেতুটা নির্মিত হলে পার্বত্য জেলায় পর্যটন খাতের একটা বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
সেতুটি নির্মাণ হলে উত্তর ও দক্ষিণ পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে বাধাহীন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী, উন্নত এবং নিরাপদ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত সেতু নির্মাণের বাস্তবায়ন চান স্থানীয় বাসিন্দারা।

 Cadre Specialist Physician Forum forms a human chain-320x167.webp)



