বিলীন হওয়া কিংবা পুনরায় জেগে ওঠা জমির জরিপ ও রেকর্ড পরিচালনার জন্য কাজ করে নরসিংদীর দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিস। এটি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ জরিপ কার্যক্রম।
জমির নতুন মালিকানা রেকর্ড, খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহ, ভূমির সীমানা নির্ধারণ, দিয়ারা জরিপাধীন মৌজার নতুন প্রস্তুতকৃত নকশা বা ম্যাপ প্রদান ইত্যাদি এই দপ্তরের কার্যক্রম।
তবে দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসে প্রবেশ করতেই দেখা গেলো ভিন্নচিত্র। সেবাপ্রদানকারী, বহিরাগত ও সেবাগ্রহীতা মিলেমিশে একাকার। সাংবাদিক দেখেই এত ছোটাছুটি কেন?
কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই এখানকার কর্মচারী পরিচয়ে একজন মব তৈরির চেষ্টা করে। বুঝতে বাকি রইলো না তাদের পূর্ব নির্ধারিত কাজে ব্যাঘাত ঘটছে এখন টেলিভিশনের উপস্থিতিতে।
আরও পড়ুন:
তবে এসবের মধ্যেই ক্যামেরা দেখে এগিয়ে এসে অভিযোগ করলেন ভুক্তভোগীরা। টাকা দিয়ে একজনের জমি আরেকজনের দখলে নেয়া, মাঠপর্চা খুঁজতে গেলে প্রদর্শন না করা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে টাকা দাবিসহ নানা অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বিভিন্ন জেলা থেকেও কয়েকবার এসে ঘুরতে হচ্ছে এই দপ্তরের বারান্দায়। যথাসময়ে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমগো রেকর্ড করার লাইগা যেই কাগজ দিছে, এগুলি জমা নেবে, দেখব যে কী হইছে, সই স্বাক্ষর দিব আর কী। আর যেগুলি রেকর্ড না হইছে হেগুলি কাগজপত্র জমা দেয়া।’
অন্য একজন বলেন, ‘এখানে আসছি আমাদের হিরাদি মৌজায় একটু সমস্যা আছে ওগুলা সংশোধন করার জন্য। এরা বলতাছে এইটা আরেকটু সংশোধন দেখতে হবে। দেখার পর দিয়া আমরা আরেকদিন আমাদের ডেলিভারি দিয়া দেবে কাজটা।’
আরও পড়ুন:
ভুক্তভোগী একজন নারী বলেন, ‘২৪, ২৫, ২৬ সাল— এখনও আমরা অরিজিনাল এখনও মাঠপর্চা আমরা পাই নাই। এদেরই কর্মচারী যারা আছে তারাই বলে যে মাঠপর্চা নাই এগুলি নাই আমরা কইরা লাইছি যান গা। আর যদিও পাওয়া যায় তাইলে খুঁজতে এক হাজার টাকা লাগবো, একটা পর্চায় তিন হাজার টাকা লাগবো, যেইটা একটা মাঠপর্চা।’
এই অফিসের সিন্ডিকেটের সামনে আতঙ্ক আর ভয়ে ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি নয় বেশিরভাগ ভুক্তভোগী। কেন মব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিলো এখন পুরোপুরি পরিষ্কার। এসব বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চান না এখানকার দায়িত্বরত কর্মকর্তাও। লোকবল সংকট জানিয়ে এখানকার অনিয়মের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন তিনি।
নরসিংদী উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার সাব্বির হোসেন খান বলেন, ‘নির্দিষ্টভাবে তো এইভাবে বলতে পারবো না। যদি কারো নাম থাকে তাহলে সঠিকভাবে বলা যায়। কিন্তু আমার কাছে তো এরকম কোনো কমপ্লেইন নাই বা কোনো কিছু নাই। কে কার কাছে চাইছে সেটা আপনি ওইভাবে স্পেসিফিকভাবে না বললে তো আমরা ওইভাবে বলতে পারবো না।’
আর কত দশক ও সংস্কার পেরিয়ে এসব দপ্তরে কাঙ্ক্ষিত সেবা হবে সহজলভ্য? এমন প্রশ্ন সবার।




