পরবর্তীতে ২০২২ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ পরীক্ষায় ফেনীতে ৩৭ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও সেই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী হতে হতে ২০২৬ সালে তা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৯ জনে।
অর্থাৎ ৫ বছরের ব্যবধানে ফেনীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজার ৯৯৬ জন। জেলায় দিনদিন জনসংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ায় তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে।
কোভিডকালীন শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না পারায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত নিম্নমুখী রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকেই বলছেন, করোনার সময়ে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রম ও অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুল চালু হলেও তাদের প্রতিষ্ঠানে ফেরানোর কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওই সময়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচ এখন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
৫ বছরের মাথায় পরীক্ষার্থীর নিম্নমুখিতার সূচক এখন ৪০ দশমিক ৪৩ ভাগে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২০২২ সালে ফেনীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিলো ৩৭ হাজার ৮৫ জন। কিন্তু ২০২৩ সালে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাড়ায় মাত্র ২৪ হাজার ৬০০ জনে।
এরপর থেকে শিক্ষার্থীর নিম্নমুখিতা জেলাকে আঁকড়ে ধরে। ২০২৪ সালে জেলায় ২৪ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ২০২৫ সালে অংশ নেয় ২৩ হাজার ৬০৯ জন। যা চলতি বছরে নেমে এসেছে ২২ হাজার ৮৯ জনে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমুখী হওয়ায় জেলায় শিক্ষার হারে নিম্নমুখীতা সৃষ্টি হচ্ছে কিনা? তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলছে।
তবে তাদের দাবি করোনার পর প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা বিভাগ অথবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ নেয়নি। যদি শিক্ষা বিভাগ অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতো, তাহলে জেলায় শিক্ষার্থী ঝরে যাওয়ার হার অনেক কমে যেতো।
জেলা প্রশাসন জানায়, এবার ফেনীর ৩৬টি কেন্দ্রে সর্বমোট ২২ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তন্মধ্যে এসএসসিতে ১৪ হাজার ৯৪৩ জন, দাখিলে ৫ হাজার ৯৭৭ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ১ হাজার ১৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের রুটিন পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। আর মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ মে।
ফেনীতে দিনদিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফী উল্লাহ বলেন, ‘প্রবাসী অধ্যুষিত ফেনীতে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পাশ করানোর আগেই প্রবাসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত নেন অভিভাবকরা। এর একটি বড় প্রভাব পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর পড়েছে। তাছাড়া এখন যারা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা করোনাকালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছিলো। করোনার পর স্কুল খোলা হলেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনুপস্থিত হয়ে পড়ে। অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানে। এতে করে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়। যার প্রভাব এখন পর্যন্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর রয়ে গেছে।’
তবে নানা কারণে ফেনীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে পারে বলে মনে করেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক। তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীকালে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সেই ঝরে পড়ার হারের প্রভাব এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। এছাড়াও ফেনীতে আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা, কাওমি অথবা নূরানি মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের ঝোঁক এবং অভিভাবকদের মাঝে প্রবাসমুখিতা থাকায় ফেনীতে দিনদিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে পারে।’
ফেনীতে পরীক্ষার্থী কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।





