‘অ্যান্টি-উইপনাইজেশন’ তহবিল থেকে পিছু হটছেন ট্রাম্প; ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

নিজের মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন (১৮০ কোটি) ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গড়ার পরিকল্পনা থেকে পিছু হটার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আদালতের নির্দেশে দেশটির বিচার বিভাগ এই কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করার পর গতকাল (সোমবার, ১ জুন) ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তার এই দোদুল্যমান অবস্থানের কথা জানিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দুই সপ্তাহ আগে ‘অ্যান্টি-উইপনাইজেশন’ বা ‘অস্ত্রায়নবিরোধী’ এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে শুরু থেকেই এটি নানা আইনি জটিলতায় পড়েছে। এমনকি খোদ রিপাবলিকান দলের অনেক সদস্য এই তহবিলের স্বচ্ছতা এবং এর মাধ্যমে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গাকারীদের অর্থ প্রদানের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক রিপাবলিকান নেতা এখন হোয়াইট হাউসকে এই তহবিল পুরোপুরি বাতিলের জন্য চাপ দিচ্ছেন। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা জন থুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি প্রশাসন নিজেই এটি বন্ধ করে দিলে ভালো হবে।’

ট্রাম্প এই গোপনীয় ও ঢিলেঢালাভাবে নিয়ন্ত্রিত তহবিলটিকে ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারের শিকার’ ব্যক্তিদের সহায়তার মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর নিজের দলের নেতারাই এতে শঙ্কিত। বিশেষ করে এই তহবিলের আওতায় অর্থ গ্রহণকারীদের নাম বা অর্থের পরিমাণ প্রকাশের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় জড়িত যারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমা পেয়েছেন, তারাও এই তালিকায় থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার এই তহবিলকে ‘চরম দুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে সহকর্মীদের কাছে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি একে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে নির্লজ্জ আত্মসাৎকারী’ পরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা কোনোভাবেই এটি মেনে নিবে না।

মূলত নিজের আয়কর রিটার্ন ফাঁস হওয়ার ঘটনায় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) বিরুদ্ধে ট্রাম্প একটি মামলা করেছিলেন। আইআরএস একটি সরকারি সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের মনোনীত কর্মকর্তাদের অধীনে থাকা এই সংস্থাটি মামলায় কোনো আত্মপক্ষ সমর্থন করেনি। এরই প্রেক্ষাপটে গত মাসে মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই বিতর্কিত তহবিলের ঘোষণা দেয়া হয়, যা নিয়ে ‘আঁতাত ও দুর্নীতির’ অভিযোগ উঠেছে।

ভার্জিনিয়ার ডিস্ট্রিক্ট জজ লিওনি ব্রিঙ্কিমা গত শুক্রবার সাময়িকভাবে এই তহবিল থেকে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও ক্যাপিটল দাঙ্গাকারীদের সরকারি অর্থ প্রদানের এই বিষয়টিকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো নাগরিক যদি এই তহবিল থেকে অর্থ পায়, তবে তার ওপর ১০০ শতাংশ আয়কর আরোপ করা হবে। নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটেও একই ধরনের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

চাক শুমার এই পরিকল্পনাকে ‘দিনের আলোর দুর্নীতি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে রিপাবলিকানদের বাধ্য করবে যেন তারা এই পেমেন্ট ব্লক করার পক্ষে ভোট দেয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই দুর্নীতি আড়াল করার কোনো পথ ট্রাম্পের জন্য খোলা থাকবে না।

এএম