নোংরা মেঝেতে বসেই দুপুর কিংবা রাতের খাবার সেরে নিতে হয় রোগী ও তাদের স্বজনদের। সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ ভরসাস্থল ওসমানী মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে। শুধু খাবারই নয়, এ ওয়ার্ডে বেড ভাগাভাগি করে থাকতে হয় একাধিক রোগীকে। চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে প্রায়ই চিকিৎসায় বেগ পেতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের। ডাক্তার সঙ্কটের পাশাপাশি খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা।
পর্যাপ্ত বেড ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করছেন হাসপাতালের স্টাফ নার্সরা।
রোগীর তুলনায় নার্স ও স্টাফ অনেক কম বলে জানান হাসাপাতালের নার্সরা। এদিকে, ওসমানী মেডিকেলের অভ্যন্তরে নির্মিত ১৬ তলা ভবনের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো চালু হয়নি সেবা কার্যক্রম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ভবনগুলোতে সেবা কার্যক্রম চালু না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
আরও পড়ুন:
সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির বলেন, ‘সরকারের অনুমোদিত হলো ৫০০ আর সিটের সংখ্যা হলো ৯০০ কিন্তু প্রতিদিন আমাদের এখানে রোগী ভর্তি হয় ২ হাজার ৯০০। বাকি রোগীদের তো ফ্লোরিং করতে হয়।’
এছাড়া ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫০ শয্যার সিলেট জেলা হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও তা এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় চালু হয়নি।
তবে হাসপাতালটির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলছেন, কিছু কাজ বাকি থাকায় এখনো সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশাবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অনেক কিছুর ঝটিলতা আছে। যদিও ঠিকাদার কাজ শেষ বলে চলে গেছি কিন্তু আমরা গিয়ে দেখেছি শতভাগ কাজ শেষ হয়নি।’
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. নূরে আলম শামীম বলেন, ‘দুই একের মধ্যে ভালো কিছু সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে হচ্ছে।’
সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে দ্রুত নতুন হাসপাতাল চালু, নির্মানাধীন ভবনের কাজ সম্পন্ন করে জনবল নিয়োগ এবং কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিতে সরকারের সরাসরি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।


 Andoni Iraola, Ryan Mason, and Xabi Alonso-320x167.webp)


