ইঞ্জিন সংকটে তেলবাহী ওয়াগনের কার্যক্রমে স্থবিরতা; সমাধানের দাবির বিপরীতে কেবলই আশ্বাস!

বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা তেলবাহী ওয়াগন
বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা তেলবাহী ওয়াগন | ছবি: এখন টিভি
0

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি জ্বালানি তেল পরিবহনের সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম রেলপথ। তবে ইঞ্জিন সংকটে সারা দেশের মতো সিলেটেও তেলবাহী ওয়াগনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। তেলবাহী ওয়াগনগুলোতে দ্রুত নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের দাবির বিপরীতে রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাস থাকলেও সুষ্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেই।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন—একসময় যেখানে প্রতিদিন তেলবাহী ওয়াগনের আনাগোনা ছিলো নিয়মিত। এখন ইঞ্জিন সংকটে সপ্তাহ পার হলেও দেখা মেলে না এসব ওয়াগনের।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ লিটার ডিজেল রেল পরিবহনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১ থেকে দেড় লাখ লিটারে, যা মোট চাহিদার ৫ শতাংশও পূরণ করতে পারছে না।

ডিপো ইনচার্জ জানান, ২২ থেকে ২৩টি র‌্যাক প্রতি মাসে আসতো। গত বছর মাসে ১২টির মতো ওয়াগন এসেছে। মোটামুটি ভালো তেল আসতো এখানে। তখন তেলের এতো ক্রাইসিস ছিলো না। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এখন মাত্রাটা আরও কমিয়ে দিয়েছে। এই মাসে আমার জানামতে তিনটি র‌্যাক এসেছে। এটা অনেক কম, এ কারণে সরকার অনেক সহযোগিতা করেছে। এ কারণেই এই বিভাগটি টিকে আছে, কিন্তু এভাবে কতক্ষণ?’

এ অবস্থায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে সড়কপথে ডিজেল আনতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সময়মতো জ্বালানি না পাওয়ায় শিল্পকারখানা ও কৃষিক্ষেত্রেও কমছে উৎপাদনশীলতা।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে আগে প্রতি মাসে যেখানে ২০ থেকে ২৫টি তেলবাহী ওয়াগন আসতো, ইঞ্জিন সংকটে সেটি নেমে দাঁড়িয়েছে তিনটিতে। হয়তোবা ধিরে ধিরে হারিয়েই যাবে এ তেলবাহী ওয়াগনগুলো। তবে ইঞ্জিনের সমস্যা সমাধানে কী করছে রেল কর্তৃপক্ষ, এমন প্রশ্ন এখন সবার মনে।’

আরও পড়ুন:

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান আসেনি। স্থানীয় গ্যাসফিল্ড থেকে সংগ্রহীত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রেলপথে ডিজেল পরিবহন বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় বাড়ছে দুর্ভোগ। এ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান ব্যবসায়ী নেতারা।

সিলেটের বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসত আজিম আদনান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের থেকে চিঠি গিয়েছে। আমরা সেটা পেট্রোল পাম্পে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু ওনারা ডিজেল সরবরাহ করতে পারছে না। আজকে সকাল থেকে লোকজন এসে আমাদের কোম্পানিতে বসে আছে। আমাদের যদি সরবরাহ করা না হয়, আমরা কীভাবে দেবো?’

পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক মুশফিকুর রহমান চৌধুরী শাহেদ বলেন, ‘যেহেতু ইঞ্জিন স্বল্পতা, কীভাবে ইঞ্জিনের পাওয়ারটা বাড়ানো যায় এবং সরকারকে যদি এর ব্যাপারে নেক নজর দেয়, তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।’

এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি বড় কর্তাদের। তবে স্থানীয় স্টেশন ম্যানেজার ইঞ্জিন সংকটের কথা স্বীকার করে নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের আশ্বাস দিলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

সিলেট রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যাটাই হলো আমাদের ইঞ্জিন সংকট, ইঞ্জিন সংকটের কারণে আমরা তেলবাহী ওয়াগন পরিবহন করতে পারছি না। যেখানে আগে প্রতি মাসে আমাদের ২০ থেকে ২২টি আনতে পারতাম, সেখানে আমরা ইঞ্জিন সংকটের কারণে আমরা ২ থেকে ৩টি আনতছি।’

সিলেটের শিল্প, কৃষি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে সময়মতো ও সাশ্রয়ী দামে ডিজেল সরবরাহ জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিন সংকট দূর করে ওয়াগনের বগির সংখ্যা বাড়ালেই এ সংকট কাটানো সম্ভব। তবে রেল কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি।

এসএইচ