বঙ্গোপসাগরে নির্বিচারে পোনা নিধন; হুমকিতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র

সামুদ্রিকমুখী মাছ ধরার বোর্ড
সামুদ্রিকমুখী মাছ ধরার বোর্ড | ছবি: এখন টিভি
0

বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সময়েই শুরু হয় নির্বিচারে পোনা নিধনের উৎসব। এতে হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র ও মৎস্য সম্পদ। গবেষণাভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন হলে এ খাতেই ফিরতে পারে সম্ভাবনার সোনালী অধ্যায়।

বিস্তীর্ণ বঙ্গোপসাগর—যেখানে লুকিয়ে আছে দেশের ব্লু ইকোনমির অপার সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বাস্তবে দেখা যায়, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে ভোলা ও টাইগার চিংড়ি ধরার নামে নির্বিচারে নিধন হচ্ছে সব ধরনের মাছের পোনা। অগ্রহায়ণ থেকে আষাঢ় পর্যন্ত চলে এই ধ্বংসযজ্ঞ। এতে জাটকা ইলিশ, পোয়া, তপসীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হচ্ছে।

অবৈধ জাল ব্যবহারকারী জেলে ও ট্রলারগুলো প্রায় অপ্রতিরোধ্যভাবে মাছ শিকার করছে। ফলে কমছে সমুদ্রের মাছের সংখ্যা ও প্রজনন সক্ষমতা। এতে বৈধ জাল ব্যবহারকারী লাখো জেলে পড়ছেন বৈষম্যের মুখে। এ জালের জন্য ছোট ছোট মাছগুলো ধরা পরছে, ফলে সমুদ্রে মাছের প্রজনন নষ্ট হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।

আরও পড়ুন:

জেলে, বেসরকারি সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিত উদ্যোগে ২৭ হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা ও বঙ্গোপসাগরকে সুরক্ষিত করা গেলে মাছ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবনমানও উন্নত হতে পারে।

কলাপাড়া উত্তরণ ফিশনেট প্রকল্পের এরিয়া ম্যানেজার মো. আবু এমরান বলেন, ‘নিষিদ্ধ জালের ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সমুদ্রে মাছ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্রকেন্দ্রিক লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ।

কলাপাড়া সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘বৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য জেলেদেরকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। ফলে মাছের প্রজনন ও বাড়বে।’

সমুদ্রে থাকা ৪৭৪ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল রক্ষা এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করা এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নই পারে এ সংকট কাটাতে।

জেআর