গতকাল (শনিবার, ৫ এপ্রিল) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরা ও বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংর্ষের এ ঘটনা এক পর্যায়ে মহাসড়কে পর্যন্ত আতঙ্কের সৃষ্টি করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্লক করে যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী পরিবহনে ঢিল নিক্ষেপসহ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে করে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতভর সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে হাইওয়ে পুলিশের প্রচেষ্টায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরও জানা যায়, সোনাপুর গ্রামের এক স্বামী পরিত্যক্তা নারীর বাড়িকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিলো। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে পাশের মাসকরা গ্রামের মিয়াধন সেখানে গেলে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতির জেরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন যুবক দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মাসকরা গ্রামে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এসময় ছয়টি দোকান ও অন্তত ২০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয় এবং কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেয়া হয়। হামলাকারীরা হাঁস-মুরগিসহ ঘরের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ হামলায় কুমিল্লা বারের আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের অনেকেই মুখোশ পরে ছিল এবং তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মাসকরা গ্রামের লোকজন সোনাপুর গ্রামের ছাদেক মিয়ার বাড়িতে আগুন দিলে তার চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ছাদেক মিয়ার পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তবে এর আগেই আগুনে কয়েকটি ঘর ও খড়ের গাদা পুড়ে যায়।’
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘সোনাপুর ও মাসকরা গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকটি বাড়িঘর পুড়ে গেছে এবং একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’





