কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত দোশারীচৌ খালটি দখল-দূষণের অভিশাপে আগেই হারিয়েছে জৌলুস। সেই সঙ্গে গ্রীষ্মের খরা ও বর্ষার জলাবদ্ধতা কারণে কৃষিখাতে পড়েছে মারাত্মক প্রভাব। এ থেকে থেকে রক্ষা পেলে আবাদযোগ্য হবে প্রায় দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমি। এমন বাস্তবতায় প্রায় ৫ হাজার ৩শ মিটারের এ খাল পুনঃখননের কাজ উদ্বোধন করেছেন সরকারের খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ।
একসময় এ খাল ছিলো এলাকার কৃষির প্রাণ। বর্ষার পানি নিষ্কাশন আর শুষ্ক মৌসুমে সেচ—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতো এটি। কিন্তু বছরের পর বছর ভরাট ও দখলে সেই খালই এখন পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের কারণ। উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী বলেন, ‘খাল-নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে সরকার।’
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারে চেয়ে আর কেউ ক্ষমতাবান নেই। আপনাকে অনুরোধ করছি, খাল-নদী যা কিছু দখল করেছেন তা ছেড়ে দেন। কারণ আপনাকে ছেড়ে দিতেই হবে।’
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য বলছে, এ খাল খনন হলে অন্তত ৪২টি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। মিলবে সেচের পানি, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে প্রায় দুই হাজার হেক্টর কৃষি জমি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় বিস্তীর্ণ এলাকার বর্ষার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ-এ খাল বর্তমানে ভরাট ও দখল-দূষণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে প্রতি বর্ষাতেই নষ্ট হচ্ছে ফসল। খাল খনন হলে ফসল উৎপাদন ভালো করা যাবে বলেন তারা।
বিএডিসি জানায়, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে শুধু জলাবদ্ধতাই কমবে না, ফিরবে তিন ফসলি জমি। একই সঙ্গে কৃষিতে সেচের পানির চাহিদা পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী-প্রকৌশলী এ কে এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, খাল খননটি আশা করি সফলভাবে শেষ করতে পারবো। যদি শেষ করতে পারি, তাহলে আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থাটি আরও উন্নত হবে। ফলে এখানে কোনো জলাবদ্ধতা তৈরি হবে না। আর যে ফসলি জমিগুলো ১ ফসল সেগুলো ২ ফসল চাষ করা যাবে, দুই ফসলের জমিগুলো তিন ফসল চাষ করা যাবে।’
এ প্রকল্পের আওতায় এই খাল ছাড়াও আগামী দুই অর্থবছরে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় আরও প্রায় ২০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।





