আদমপুর ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামের তাঁত শিল্পী জুবেদা আক্তার। তাঁতে কাপড় বুনে সংসার চালান, পাশাপাশি অন্যদেরকে করে দিয়েছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ। শুধু জুবেদা আক্তার নয়, অন্য তাঁতিরাও তাঁতে কাপড় বুনে হচ্ছেন লাভবান।
জুবেদা আক্তার বলেন, ‘পরিশ্রমের ফল আমরা পাচ্ছি না। অনেক মহাজন আছে তারা আমাদের থেকে কম দামে নিয়ে যায়। আর একটা শাড়ি বানাতে খরচ হয় ৪ হাজার টাকা, সব খরচ বাদে আমাদের হাতে তেমন কিছুই থাকে না।’
জেলার আদমপুর, আলীনগর, মাধবপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে মণিপুরির সংখ্যা প্রচুর। প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী তাঁতের খটখট শব্দে এখন পাড়া মুখরিত। মণিপুরিদের কাছ থেকে ক্রমে বাঙালিদের মাঝেও এ কাজ ছড়িয়ে পড়ায় মণিপুরি আসল তাঁতের মান নষ্ট হচ্ছে বলেও জানান তারা।
আরও পড়ুন:
মুনিপুরী কাপড় ও সুতা ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সুতার দাম অনেক বেশি, বর্তমানে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া জিআই স্বকৃতি পাওয়া পর চাহিদা বাড়ছে।
জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর বেড়েছে মণিপুরী শাড়ির চাহিদা। মুনিপুরীরা জানান, আগের চেয়ে অনেক বেশি শাড়ি বিক্রি করা যাচ্ছে। বর্তমানে শাড়ির চাহিদা বেশি।
কমলগঞ্জের মনিপুরী তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সুপার ভাইজার সৌধামিনি সিংহ বলেন, ‘জিআই স্বকৃতি পাওয়া পর আমাদের শাড়িগুলোর চাহিদা অনেক বেড়েছে। অনেক বাড়ায় এরারের ঈদে চাহিদাও বেশি।’
এ ঈদে শুধু কমলগঞ্জ এলাকা থেকে ২০ কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হবে বলে জানালেন এ ব্যবসায়ী নেতা।
মৌলভীবাজারের আদমপুরের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর মুন্না রানা বলেন, ‘তাঁত শিল্প অনেক দিন বন্ধ ছিলো। এখন আবার চাহিদা বাড়ছে। সরকারিভাবে যদি কোনো সহযোগিতা করা হয়, তাহলে তাঁত শিল্পীদের জন্য ভালো হয়।’
তাঁত শিল্পীদের সহজ শর্তে সরকারি ঋণ সুবিধা দিলে তারা লাভের মুখ দেখবেন ও এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।





