গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ৫ রমজান দুপুর থেকে শুরু হয়েছে এই বিনা লাভের বাজারের কার্যক্রম। ‘আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য- লাভ নয় সেবা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে নেছার, ফাহিম, সানি, সাকিব, সামাদ, সাকি, বেলাল ও ইলিয়াস নামে আট বন্ধু মিলে তাদেরর জমানো টাকা দিয়ে শুরু করেছে বিনা লাভের বাজার।
রমজান মাসে বাজারের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষসহ নিম্নবিত্তরা দিশেহারা। তারা মনে করেন সামান্য হলেও যদি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন তবে সেটাই তাদের সার্থকতা। তাদের এই বিনা লাভের বাজার রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আট বন্ধু।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে একজন ফয়সল আহমেদ ফাহিম বলেন, ‘বাজারের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে তারা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষ মানুষের কাছে বিক্রি করছেন।’
বিনা লাভের বাজারের পণ্য বিক্রয় মূল্যর তালিকা, পেঁয়াজ (দেশি)-৩৩টাকা, রসুন (দেশি)-৬০ টাকা, ছোলা - ৮০ টাকা, মশুর ডাল-৮৫ টাকা, চানার ডাল-৫৮ টাকা, সেমাই -৩৫ টাকা, আলু (দেশি)-১৫ টাকা, শসা -৫০ টাকা, গাজর-২৫ টাকা, লাউ (পিচ)-২৫ টাকা, লেবু হালি (৪ পিস) -৪৫ টাকা, ধনিয়া পাতা (কেজি)-৩৫ টাকা, কাঁচা মরিচ (কেজি)-১৩০টাকা, বেগুন (কেজি)-৪৫ টাকা, আলু মুন্সিগঞ্জি (২ কেজি) ২৫ টাকা।
আরও পড়ুন:
অনেকে অনেক দূর থেকে এসেও এই বিনা লাভের বাজারে ক্রয় করছেন। বিনা লাভের বাজারে ক্রয় করতে আসারা জানান, রমজান আসলেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। পেঁয়াজ, ছোলা, বেগুন, ডাল, কাঁচা মরিচ, লেবুসহ অন্যান্য সামগ্রী সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে যায়।
যুবকদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা বলেন, ‘বাজারের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে এখানে নিত্যপণ্য ক্রয় করা যাচ্ছে, এতে করে অনেক টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের খুবই উপকারে আসবে।’
তারা এই কার্যক্রম চালু রাখারও দাবি জানান।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, ‘এলাকার যুব সমাজ এভাবে এগিয়ে আসলে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙবে ও এলাকার নিম্ন ও মধ্য বিত্তরা উপকৃত হবে।’
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকদের মধ্যে সালাহ উদ্দিন সাহান বলেন, ‘তাদের এই উদ্যোগের কারণে আশপাশের বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি বাজারে যদি এভাবে যুব সমাজ ও বিত্তশালীরা এগিয়ে আসতেন তবে রমজান মাসে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে যেত।’
তিনি বলেন, ‘বাজার থেকে দ্বিগুণ দাম দিয়ে পণ্য ক্রয় করতে হচ্ছে যা এখানে অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে।
পতনউষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য বলেন, ‘যুবকদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। খুবই অল্পমূল্যে তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি করছে, যত টাকা দিয়ে ক্রয় করে আনছে সেই টাকাতেই তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। তাদের এই উদ্যোগের কারণে গরিব মানুষরা উপকৃত হচ্ছে।’
বিনা লাভের বাজারের এই কার্যক্রম রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও জানান উদ্যোক্তারা।





