পোশাকের মাপ আর ডিজাইন রিসিটে ঠিকঠাক তুলে এরপরই সুঁই সুতা নিয়ে সেলাই মেশিনে বসে কাজ শুরু ইয়াসমিন বেগমের। তার দোকানে কাপড়ের স্তূপ আর সেলাই মেশিনের শব্দই বলে দিচ্ছে ঈদকে ঘিরে রোজায় ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জির দোকানে।
ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘শবেবরাতের পর থেকে দোকানে কাজের চাপ বেশি। সকাল ৯টায় দোকানে আসি আর রাত ১২ টায় দোকান থেকে বাসায় যাই।’
রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেলো, শবে বরাতের পর থেকেই রাজধানীর সব দর্জির দোকানে এখন কাপড় কাটাকুটি আর সেলাই মেশিনে নানা ডিজাইনের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই। অনলাইন শপিং এবং রেডিমেড কাপড়ের কদর বেড়ে যাওয়ায় আগের সেই জৌলুস নেই টেইলার্সের দোকানে। তবে ঈদের আগের এ সময়টায় অর্ডার বাড়ছে বলে জানালেন দর্জিরা।
আরও পড়ুন:
কারিগররা জানান, এসময় একটু কাজের চাপ বেশি থাকে। শবেবরাতের আগে থেকেই অনেকে ঈদের কাজ বানিয়ে নিয়ে গেছে।
ভালো ফিটিংস এবং পছন্দের পোশাক বানাতে কেউ কেউ ক্যাটালগ নিয়ে দ্বারস্থ হচ্ছেন দর্জির কাছে আবার কেউ বা ফোনেই পছন্দের ডিজাইন আর মাপ বুঝিয়ে দিচ্ছেন কারিগরদের। এছাড়া কাপড়ে ভিন্নতা আনতে নানা ডিজাইনের লেইস কিনতেও দেখা যায় অনেককেই।
কারিগররা আরও জানান, অনেকে অনলাইনের মতো বানানোর জন্য আলাদা করে লেইস বা ফিতা কিনে আনেন।
ঈদের আগে মজুরি এবং চাপ বাড়ে তাই রোজার আগেই কাপড় বানানোর কাজ সেরে ফেলতে এসেছেন বলে জানান অনেকেই।
ক্রেতারা জানান, আগে আগে বানানোর কারণ হচ্ছে ঈদের আগে যেন কোনো ঝামেলায় না পড়তে হয়। তাছাড়া নিজে নিজের মতো করে কাস্টোমাইজ করে বানানো গেলে আনন্দ লাগে খুব।
নিউমার্কেট, মৌচাক, ধানমন্ডি, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় কাপড়ের ধরন এবং ডিজাইনের ওপর মজুরি রাখা হচ্ছে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পর্যন্ত। কারিগররা জানালেন, তৈরি পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং এবার নির্বাচনের ছুটির কারণে অর্ডারে কিছুটা ভাটা পড়লেও রোজার মাঝে আবারও বেড়েছে অর্ডারের চাপ।
কারিগররা জানান, এখন যেরকম অর্ডারের চাপ আছে। এ চাপ যদি থাকে তাহলে ১৫ রমজানের আগেই বন্ধ করে দিতে হবে অর্ডার নেয়া।
ঈদের আগে চাপ বাড়লে রমজানের শেষ সপ্তাহের শুরুতেই নতুন কাজের আর ফরমায়েশ নেয়া সম্ভব হবে না বলে জানান কারিগররা।





