দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে কোচ মেরামতের জন্য আসে কারখানায়। ভেতরে বিশাল কর্মযজ্ঞ চললেও ১১০ একরের কারখানায় তিন হাজারের বিপরীতে এক হাজারেরও কম শ্রমিক কাজ করার কারণে অবশ্য কর্মযজ্ঞ বোঝার উপায় নেই। ঈদের এক মাস আগে থেকে দ্বিগুণ শ্রম দিয়ে কাজ করেন শ্রমিকরা। সব কিছু মেরামত করে ঈদের অন্তত ১০ দিন আগে ডেলিভারি দেয়া হয়। কোনটার বডি মেরামত, কোনটার সিট, আবার কোথাও ঘষেমেজে পরিষ্কার করা হয় ভারী ভারী চাকাগুলো।
এবছর ১০০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে অনেকগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। ১০ মার্চের মধ্যে বাকীগুলোও শেষ হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন:
ক্যারেজ শপ ইনচার্জ মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের একশোটি কোচ মেরামতের জন্য লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা ৫৫টি কোচ আউট টার্ন দিয়েছি। আর এখনও ১২ কর্মদিবস আছে আশাকরি এর মধ্যে ৪৫টি আউট টার্ন দিতে পারবো।’
মেরামতের কাজ শেষ হলে কোচগুলো পেইন্ট শপে যায়, ভেতরে-বাইরে রং করা হয়। কোচের নাম, নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লেখার পর প্রস্তুত হয় যাত্রী বহনের জন্য।
পেইন্ট শপ ইনচার্জ মো.শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি ক্লিনিং, রঙ, সিট নাম্বার দেয়া সব আমাদের এখানে হয়। তাই আমাদের কাজের চাপও বেশি।’
প্রতি বছরই রোজার ঈদের আগে কাজ অনেকগুণ বেড়ে যায় কারখানার শ্রমিকদের। ওভারটাইম ছাড়া ছুটির দিনেও কাজ করেন শ্রমিকরা।
সৈয়দপুর বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘যাত্রাপথ নিরাপদ করতে আমাদের এখানে বছরে একবার প্রতিটি ট্রেন আসে মেরামতের জন্য। যেগুলো যাত্রীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তা আমরা দেখি। আর সমস্যাগুলো আমরা ঠিক করি।’
বরাবরের মতোই অনুমোদিত শ্রমিক নিয়োগের দাবি কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের। এতে একদিকে কাজের অতিরিক্ত চাপ কমবে, অন্যদিকে অনেক বেশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যাবে।





