আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এবং মায়ানমার সীমান্ত থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অভ্যন্তরে অবস্থিত পাহাড়ভাঙ্গা পাড়া। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে এই অঞ্চলের ফাতরাপাড়া, মাসখুম পাড়া ও তরণী পাড়ার শিশুরা দীর্ঘকাল ন্যূনতম শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে আলীকদম জোন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় এই এলাকায় ‘সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উদ্বোধন শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ, বেঞ্চ, পাঠ্যবই ও স্টেশনারি সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এই আয়োজনে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দুই দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে। এতে ৯৫ জন পুরুষ, ১৭৫ জন মহিলা এবং ৪৫ জন শিশুসহ সর্বমোট ৩১৫ জনকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়া শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষায় ১১৩টি পরিবারের মাঝে কম্বল এবং আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেন প্রধান অতিথি।
আরও পড়ুন:
জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের সুবিধা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্মিত এই বিদ্যালয়টি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আমরা সর্বদা জনগণের পাশে থাকবো।’
উল্লেখ্য যে, দুর্গম এই জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে নবনির্মিত এই বিদ্যালয়টি আলীকদম উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক অর্থায়নে নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্থানীয় উন্নয়নে সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মনজুর আলম, মেজর মো. পাভেল মাহমুদ রাসেল, বিএসপি, আলীকদম জোনের জোনাল স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী তাওহীদ এবং লামা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুম সরদার। এছাড়াও কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, স্থানীয় কারবারি, জনপ্রতিনিধি এবং প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।




