ইশতেহারে নারীর কথা, ভোটের পরে নীরবতা—ভাঙবে কি পুরনো ধারা?

কর্মজীবী নারীরা
কর্মজীবী নারীরা | ছবি: এখন টিভি
0

দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে প্রতিবার ভোটের ইশতেহারে থাকলেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না নারীদের নিয়ে প্রার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো। ফলে আড়ালেই থেকে যায় নারীরা। নতুন বাংলাদেশে রাজনীতির পুরনো ধারার পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের সুরক্ষা, সমতা আর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা চান নারী ভোটাররা।

চলতি পথে সহকর্মী নির্জনার সঙ্গে ভোট নিয়ে আলাপ জেবীন ইসলামের। আলাপের কেন্দ্রে থাকে নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নানা দিক। ভোট চাইতে এলে কী প্রত্যাশার কথা জানাবেন— সেই ভাবনাও ঠিক করছেন।

জেবীন ইসলাম বলেন, ‘আমরা আসলে সহানুভূতি চাই না। আমরা চাই আমাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। আমাদের যে নারী অধিকারগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে।’

তবে ভোটে নিজেদের অধিকার নিয়ে যতটা সচেতন জেবীন-নির্জনা, তৃণমূলের খেটে খাওয়া নারীদের কাছে ভোট কেবলই এলাকার উন্নয়নে প্রার্থীদের দেয়া নানা প্রতিশ্রুতি। যা পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তাদের। তাই তাদের কাছে ভোটের চেয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই মুখ্য।

তবে আক্ষেপের মাঝেও কেউ কেউ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক হানাহানি বন্ধ, ঘরে-বাইরে নিরপদে চলতে পারা আর কর্মক্ষেত্রে নানা বৈষম্য নিরসনের দাবি তুলেছেন।

আরও পড়ুন:

নারীরা বলছেন, সুষ্ঠু কর্ম ব্যবস্থার সুযোগ করে দিতে হবে তাদের। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীদের জন্য উন্নতি চান জেলার তরুণীরা।

এদিকে গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার পরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কাঙ্ক্ষিত শিল্পায়ন হয়নি। তাই নারীদের কর্মক্ষেত্রও সীমিত। এজন্য শিল্পায়নে মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দাবি উদ্যোক্তাদের। এছাড়া নারী শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নেরও দাবি আছে নতুন সরকারের কাছে।

আর সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি সহিংসতা বন্ধসহ নারীর জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন চালুর দাবি নারী সংগঠনগুলোর।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী বলেন, ‘এমন কোনো একটা সরকার আসুক, যে সরকার নারী নির্যাতন বন্ধ করবে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তারা আরও বেশি কাজ করবে। নারীর কর্মসংস্থান বের হবে। সংবিধানে নারীর জন্য অনেককিছু আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি যে সম্পত্তিতে নারী অধিকার পাচ্ছে না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৩ এবং নারী ভোটার ১২ লাখ ৪১ হাজার ৬৯৮ জন।

এসএস