নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীতে নারী ভোটারদের বৈষম্যহীন উন্নয়নের প্রত্যাশা

রাজশাহী শহর ও গ্রামের নারীরা | ছবি: এখন টিভি
0

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা বাড়ছে রাজশাহীর গ্রাম ও শহরের নারী ভোটারদের। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভোট শেষে প্রার্থীদের পাশেও পেতে চান তারা। আসছে নির্বাচনে তারা এমন একজন প্রতিনিধি বেছে নিতে চান, যিনি বৈষম্য ছাড়া নারীর উন্নয়নে কাজ করবেন; ভূমিকা রাখবেন নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও নারী শিক্ষা উন্নয়নে।

দালানের শহর, উঁচু-নিচু বরেন্দ্র, চরাঞ্চল আর সমতল জলাশয়ের ভৌগোলিক বিচিত্রতার রাজশাহী। যেখানে মোট জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী। আর ভোটের গণনায় তা ৫০ শতাংশের বেশি।

৭০ শতাংশ কৃষি পেশার এই জেলায় পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রমে-ঘামে এগিয়ে আছে নারীরা। যার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির নারীরা সবচেয়ে বেশি। তবু কাজে যাওয়া-আসার পথে পাড়ি দিতে হয় নানা হয়রানি, সাথে রয়েছে মজুরি বৈষম্যর গ্লানি। আগামী নির্বাচনে তা থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতিই খুঁজছেন তরা।

পরিশ্রমী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির গ্রাম উঁচাডাঙ্গা বৃদ্ধা যাচিন্তা মরান্ডী মাঠে কাজে যেতে পারেন না তাই গৃহস্থের সহায়তা করছেন। আর কৃষিতে মেশিনারিজের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় চিন্তায় আছেন অন্যান্যরাও। তাতে বাঁশ-বেতের কারিগরি প্রশিক্ষণ আর কাজের সন্ধানের প্রত্যাশা এই গ্রামের নারী ভোটারদের।

উঁচাডাঙ্গা গ্রামের একজন নারী বাসিন্দা বলেন, ‘আধুনিক যুগে বিভিন্ন প্রযুক্তির দ্বারা কৃষি কাজ হচ্ছে এর জন্য আমরা কারিগরি প্রশিক্ষণ চাই।’

বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির সমস্যা দূর করা, দোরগোড়ায় শিক্ষা লাভের সুযোগ, স্বাস্থ্য সেবাসহ নারী বান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নারীদের এগিয়ে নিবে, আসছে নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধির প্রতি এমন প্রত্যাশা অন্যান্যদের ।

আদিবাসী একজন নারী বলেন, ‘বাহিরে যাতায়াতে সমস্যা হয়। গাড়ি পেতে দেড়ি হয়। এখানে আশেপাশে কোনো স্কুল নেই। এতে অনেক অসুবিধা হয়।’

আরও পড়ুন:

শুধু গ্রামীণ নারীরাই নয়, শহরের উদীয়মান নারী উদ্যোক্তারাও চান নারীদের গুরুত্ব দেয়া হোক কর্মসংস্থান আর অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে।

নারী উদ্যোক্তাদের একজন বলেন, ‘আগামী সরকারের কাছে এটিই চাওয়া যে আমরা যারা নতুন নারী উদ্যোক্তা তাদের যেন পাশে থাকে নিরাপত্তার একটি জায়গা করে দেয়।’

রাজশাহী উইমেন বিজনেস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রোজেটি নাজনিন বলেন, ‘ভালো নারীরা যে শুধু বঞ্চিত হয় তা না আরেকটি গোষ্ঠী আছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যাদের মধ্যে শিক্ষার আলো নেই তারা সমাজে পিছিয়ে আছে অনেকটা। সুযোগ সুবিধা সরকারিভাবে কোনোভাবেই তাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি না।’

এদিকে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে, সমাজের সব স্তরের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বলে মত এ সমাজকর্মীর। নির্বাচনকালীন এবং পরবর্তী সময়ে নারীদের সামাজিক নিরাপত্তায় প্রার্থীর বাইরেও রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব নিতে হবে বলছেন উন্নয়ন কর্মীরা।

পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন বলেন, ‘আমরা যদি নারী এবং তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত না রাখতে পারি তাহলে রাষ্ট্রের উন্নতি, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে না। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের নির্বাচনের প্রার্থীদের অবস্থান নিতে হবে।’

নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, রাজশাহী জেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ২৩ হাজার ৯০৪ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৪০ হাজার ৩৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৫ জন।

এফএস