বাড়ে বাজেট আর খরচ; তবু থামছে না ডেঙ্গুর মৃত্যু

ডেঙ্গুর প্রকোপ
ডেঙ্গুর প্রকোপ | ছবি: এখন টিভি
0

ডেঙ্গুতে মৃত্যু কোনোভাবেই থামছে না। ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু চলতি বছরের তিন মাসেই। মশা চিহ্নিত না করে বাজেট ও খরচ বাড়িয়েও এডিস মশা নিধন করা যাচ্ছে না। গবেষক সাঈদ মাহমুদ উল্লাহ বলেন, এডিস মশা চিহ্নিত না করে সারা বছর ওষুধ ছিটালেও ডেঙ্গুর মহামারি বন্ধ হবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেই না, কোনটা এডিস মশা।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ জনজীবন। কিন্তু সব মশাই এডিস নয়। কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস মশাও আছে। সব মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয় না।

ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতির এই সংক্রমণের সময় আবারও আলোচনায় কেন এডিস ধ্বংস করা যাচ্ছে না। যদিও মশা ধ্বংস করতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর দাবি করছে সিটি করপোরেশন। গত চার বছরে মশা নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বিগত ত্রিশ বছরে ঢাকা সিটি করপোরেশন মশা নিধন, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে ব্যয় করেছে ১৮শ কোটি টাকা।

বাসা বাড়িতে কিংবা পরিত্যক্ত অবকাঠামোতে লার্ভা ধ্বংস ও উড়ন্ত মশা মারার স্প্রে করে সিটি করপোরেশন। প্রতিবছর বাজেট ও খরচ বাড়লেও ডেঙ্গু সংক্রমণ থামছে না। বাড়ছে মৃত্যুর হার। ২৩ সালে ১৭০৫ জন মারা গেছে। যা দেশে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা।

সে বছর সাড়ে তিন লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ২৪ সালে ৫৭৫ জন, ২৫ সালে ৪১৩ জন। আর চলতি বছরের তিন মাসে মারা গেছে ৪০০ মানুষ। শুধু অক্টোবরেই ১৫৫ জন অকাল মৃত্যুর শিকার হয়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৩৭ জন।

আরও পড়ুন

মশা নিধন করলেও কেনও বাড়ছে ডেঙ্গু। ওষুধ ছিটিয়ে কেন কমানো যাচ্ছে না মৃত্যু। এসব প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এডিস মশা চিহ্নিত করা নিয়ে গবেষণাকারী অধ্যাপক সাইদ মাহমুদ উল্লাহ বলছেন, মশা চিহ্নিত না করে অনুমানের ভিত্তিতে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানেই না, কোনটা এডিস মশা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডিস মশার গবেষক ও শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদ মাহমুদ উল্লাহ বলেন, ‘যখন মশা আমরা ধরব বা আমাদের ক্যাচ হবে মশা আমাদের যন্ত্রের মধ্যে, তখন ওই ক্যামেরা দিয়ে ওই ভিডিও হয় এবং সেখান থেকে আপনি ইমেজ পাবেন। সেই ইমেজকে আমরা এআই দিয়ে অ্যানালাইসিস করব। তো ওই এআই দিয়ে আমরা এআইকে অলরেডি ট্রেন করেছি। ফলে ওইটা করতে পারি কি যে এডিস মশাকে ডিটেক্ট করতে পারি যে হ্যাঁ আমার এখানে এডিস মশা আছে। ফলে এরকম ১০টা জায়গায় যদি আমার মেশিনটা আমি রাখি, তাহলে ১০টা জায়গাকে আমি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করতে পারছি। ফলে হবে কী, আপনি আগে থেকে তাহলে ধরতে পারবেন যে এই এলাকাটায় ঢাকা শহর হোক বা দেশের বিভিন্ন যেখানেই হোক না কেন, হ্যাঁ, এই এলাকায় এডিস মশার মানে সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে পসিবিলিটি আছে যে এখানে ডেঙ্গুর একটা প্রবণতা হতে পারে।’

কিউলেক্স মশাকে এডিস মনে করে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মশা চিহ্নিত করার উপর জোর দিয়েছেন এই গবেষক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডিস মশার গবেষক ও শিক্ষক অধ্যাপক সাঈদ মাহমুদ উল্লাহ বলেন, ‘যারা অথরিটি আছেন, তাদের সঙ্গে একটা যোগাযোগ করে তারা এটাকে কীভাবে সত্যিকারের ফিল্ডে ইউজ করতে পারেন, যেটা সাধারণ মানুষের জন্য ফাইনালি উপকার হবে এবং আশা করা যায় আমাদের এটা আশাব্যঞ্জক একটা মানে ফলাফল দিবে।’

গবেষকরা মনে করেন, গতানুগতিক পদ্ধতি ও বছরের কয়েক মাসের পদক্ষেপে ডেঙ্গু কোনোভাবেই প্রতিরোধ করা সম্ভব না।

জেআর