৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন নতুন পরিচয়ে পা রাখেন হাজারো মানুষ। তাদের বড় একটি অংশই ব্যাচেলর শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী। ইট পাথরের জনারণ্যে জীবিকার সন্ধান মিললেও, তাদের সবার ভাগ্যে জোটে না নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহান ও সজীব। পুরান ঢাকার কলতাবাজারে ৬০০ বর্গফুটের তিন কক্ষের এই বাসা ভাগ করে নিয়েছেন আরও ৬ জনের সঙ্গে। ১৮ হাজার টাকা ভাড়ায় গাদাগাদি করে চলে ঘুম, খাওয়া ও পড়াশোনা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বাসা খুঁজতে গেলে বাসার মালিকেরা ব্যাচেলর শুনলে নাক সিটকায়, অনেক সময় তারা দিতে চায় না। আর পড়ার ভালো পরিবেশ থাকে না, বলেন তারা।
অন্যদিকে, রাজধানীর বনানীর মতো অভিজাত এলাকার ঝকঝকে ভবন আর ব্যস্ত সড়কের আড়ালে বেলতলায় ভিন্ন এক বাস্তবতা। মাত্র ২০০ বর্গফুটের কক্ষে গাদাগাদি করে থাকেন ৪৫ জন শ্রমজীবী মানুষ।
শ্রমজীবী মানুষরা জানান, ফ্ল্যাটগুলা তৈরি করে কিন্তু ওখানে তো রুম ভাড়া অনেক বেশি, আর নিম্নবিত্ত লোকদের তো থাকার মতো কোনো অবস্থা নেই।
পরিসংখ্যান বলছে, এই মহানগরীর ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ থাকেন হল বা ছাত্রাবাসে, বাকিদের ভরসা ভাড়া বাসা। আর সরকারি-বেসরকারি নানাবিধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ২০ লাখসহ রাজধানীতে ব্যাচেলরের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে।
সংকট মোকাবেলায় পরিকল্পিত ও সাশ্রয়ী আবাসনের তাগিদ নগর পরিকল্পনাবিদদের।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘এককভাবে শহরে চাকরি করে সেই ক্ষেত্রে তার একটা হাউজিংয়ের ব্যবস্থা তো এই ধরনের হাউজিংয়ের চাহিদা এ শহরে আছে। শহরকেন্দ্রিক, আমার কাছে মনে হয় এরকম ডরমিটরি হাউজিংয়ের চাহিদা আছে যেটা একটা নিরাপদ হাউজিং হবে এবং ভালো ফ্যাসিলিটিজও সেখানে থাকবে।’
এদিকে, আবাসনে সংকট মোকাবিলায়, রাজধানীর গাঁঘেষা টঙ্গীর দত্তপাড়ায় ৯৮ একর জমিতে ১০০টি বহুতল ভবনে সাড়ে ১৪ হাজার ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে ৪০০ ও ৬০০ বর্গফুটের ৫৯১টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে রাজউকের। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আবাসনের সুযোগ বাড়বে ব্যাচেলর, কর্মজীবী নারী, নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘এই প্রজেক্টটা যদি সফল হয় তাহলে এরকম আরও প্রজেক্ট বিভিন্ন জায়গায় নেয়ার পরিকল্পনা গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আছে।’
সদস্য, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের যুগ্মসচিব শাহীনুর আলম বলেন, ‘৭৯২টা ফ্ল্যাট রাজউক নির্মাণ করবে, ঢাকায় যারা মানে স্বল্প সময়ের জন্য আসে, এটা ভাড়া সিস্টেমে তারা এখানে থাকতে পারবে।’
রাজধানীতে সারি সারি বহুতল ভবন, অথচ মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যাচেলর শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ। আর এ সংকট নগরীর বুকে তাদের ঠেলে দিচ্ছে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ নয়, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের জন্য সাধ্যের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন।





