গতকাল (শনিবার, ১০ অক্টোবর) রিয়াদের ওই বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য বিমানবন্দরটির সব ধরনের ফ্লাইট কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে রিয়াদ বিমানবন্দরে এটি ছিল হুথিদের তৃতীয় দফা হামলা। এর আগের হামলায় চারজন নিহত এবং একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
হুথিদের পরিচালিত পররাষ্ট্র দপ্তর রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক তৎপরতা বন্ধ না হলে সামনে আরও ‘ভয়াবহ পরিণতি’ অপেক্ষা করছে এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এদিকে শনিবারের হামলার পর দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি সামরিক জোট। এছাড়া রোববার ওই অঞ্চলে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তারা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনও যোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকা সত্ত্বেও রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন (ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস) এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রিয়াদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদান স্থগিত রেখে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।





