মার্কিন সেনাদের বিদায়, এ যেন ইরাকের জন্য নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। আর তা উদযাপনে ইরাকের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন সাধারণ মানুষ। সবার মুখে বিজয়ের হাসি। দেখে মনে হবে, এ যেনো ঘাড় থেকে সিন্দাবাদের ভূত নামার মতো স্বস্তিদায়ক অবস্থা। কেউ আতশবাজি পুড়িয়ে, কেউ আবার হাতে পতাকা নিয়ে উল্লাস করছেন যে যার মতো।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি শক্তিশালী ও সংহত রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে চলেছি।’
এদিকে, আনন্দ উদযাপনে পিছিয়ে নেই ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা শহরের বাসিন্দারাও। শহরজুড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি বহর থেকে ইরাকি পতাকা ও ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী হারাকাত আল-নুজাবার হলুদ পতাকা নিয়ে জয়োল্লাস করতে দেখা গেছে অনেককেই। বসরার বাসিন্দা মুস্তফার কাছে এই দিনটি যেন আশীর্বাদপুষ্ট।
অন্যআরেকজন বলেন, ‘দিনটি শুধু দখলদার বাহিনীর প্রস্থানের নয় বরং বিদেশি শক্তির হাত থেকে ইরাকের মুক্তি ও সার্বভৌমত্বের দিন।’
অন্যদিকে রাজধানী বাগদাদের প্যালেস্টাইন স্ট্রিটে সমবেত হন শত শত বাসিন্দা। হর্ন বাজিয়ে ও পতাকা উড়িয়ে শহরজুড়ে উল্লাস করতে দেখা যায় এসব গাড়িবহরকে।
তবে এ উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে উদ্বেগও। কেননা মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
বাসিন্দাদের অন্যআরেকজন বলেন, ‘যদিও ইরাকের বাহিনী স্থল অভিযান চালাতে সক্ষম কিন্তু বিমান ব্যবস্থা এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।’
এদিকে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা ইরাক সরকার যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তাহলে বাড়তে পারে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের শক্তি। পাশাপাশি ইসলামিক স্টেটের প্রত্যাবর্তনের সুযোগ করে দিতে পারে।





